শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ খুঁটিতে বাঁশের সঙ্গে ইট দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বেঞ্চের ওপরে কাঠগুলোও অর্ধেক ভাঙা। শিক্ষকের চেয়ারটিও রয়েছে হেলানী বিহীন। ক্লাসের শিক্ষার্থীরা ওই ভাঙা বেঞ্চের উপরেই বাই খাতা রেখে পড়াশোনা করছে। এমন অবস্থায় পাঠদান চলছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমান এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো দয়াবান ব্যক্তি অথবা বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করে গত ১৬ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে এক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিকক্ষের ওই ভাঙাচুরা বেঞ্চের ছবিসহ পোস্ট দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৬৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। আর ছোট-বড় মিলে বেঞ্চ আছে মাত্র ১৫০ জোরা। সেগুলোও আবার ভাঙাচুরা। বেঞ্চের অভাবে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাসে বসে পড়াশোনা করতে হয়। ভাঙা কিছু কিছু বেঞ্চের ওপরে শিক্ষার্থীরা বই খাতা ও বই রাখার ব্যাগ রাখতে পারে না। বাধ্য হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওইসব ভাঙা বেঞ্চ জোড়াতালি দিয়ে বসার উপযোগী করে পড়াশোনা করাচ্ছেন। শিক্ষকদের চেয়ারগুলোর অবস্থাও খারাপ। কোনো ক্লাসে চেয়ার আছে সেগুলো আবার হেলানী বিহীন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বেঞ্চের অভাবে তাদের গাদাগাদি করে ক্লাসে বসে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়। এমনিতেই বসার জায়গা হয় না তার উপরে আবার বই রাখতে হয়। ভাঙা বেঞ্চে কাপড় আটকিয়ে ছিঁড়ে যায়। কিছু ভাঙা বেঞ্চে পায়া নেই সেগুলোতে আমাদের স্যারেরা বাঁশের পায়া লাগিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে দ্রুত বেঞ্চের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কমলেন্দু স্যানাল বলেন, বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেঞ্চের সংখ্যা অপ্রতুল। বিষয়টি উপজেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও আজো সমস্যার সমাধান হয়নি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল বলেন, স্কুলে বেঞ্চের সমস্যার কথা শুনেছি। বর্তমানে আমাদের পরিষদে কোনো ফান্ড নেই। সামনে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পরবর্তীতে আমি বা অন্য কেউ নির্বাচিত হয়ে আসলে নতুন ফান্ড থেকে স্কুলে বেঞ্চ দেওয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেঞ্চের সমস্যার কথা আমাকে জানানো হয়নি। তার পরেও আমি বিষয়টি দেখে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।
