আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে বস্তু বা জিনিসটির ওপর সব থেকে বেশি নির্ভরশীল সেটি হলো মোবাইল ফোন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার জন্য অ্যালার্ম দেওয়া থেকে শুরু করে সারাটি দিন বিভিন্ন কাজে আমরা এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করা, সময় দেখা, প্রয়োজনীয় ছবি তোলা থেকে শুরু করে আমরা এর মাধ্যমে পত্রিকাও পড়তে পারি। দিনের সকল আপডেট তথ্য আমরা এর মাধ্যমেই পেয়ে থাকি। এত প্রয়োজনীতার ভিড়ে আমরা এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে দিন দিন উদাসীন হয়ে যাচ্ছি। কীভাবে প্রতিনিয়ত এই বস্তুটি আমাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জ্ঞান খুবই সীমিত।
মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা বললে, কানে হেডফোন লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ গান শুনলে আমাদের শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। তা ছাড়া মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা বললে তা আমাদের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে করে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অস্থিরতা, অমনোযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
এত গেল মোবাইলের মাধ্যমে সরাসরি মানব শরীরে সৃষ্টি হওয়া কিছু ক্ষতিকর দিক কিন্তু সব থেকে দীর্ঘমেয়াদি যে ক্ষতিটি তা আমাদের সকলের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আমরা সবাই জানি গ্রাহকদের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সুবিধা দেওয়ার জন্য টাওয়ার নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এই টাওয়ারগুলোতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের দুই ধরনের এন্টেনা থাকে। এই তরঙ্গের মাধ্যমেই আমরা দূরে অবস্থিত লোকটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি। তরঙ্গ চলার সময় তার চারপাশে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড উত্পন্ন করে আর এর থেকে তৈরি হয় ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সারা বিশ্বের প্রযুক্তিতে উন্নত দেশগুলোতে গবেষণা করে দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি রোগ এবং ব্রেইন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আর এর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো মোবাইল ফোন। কারণ মোবাইল চালু অবস্থায় শরীরের খুব কাছাকাছি বা বুক পকেটে রাখলে হার্ট আট্যাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের সংস্পর্শে আসা প্রতি ৪ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। এই রেডিয়েশন যে শুধু মানব শরীরেরই ক্ষতি সাধন করে শুধু তাই নয় এর ফলে টাওয়ারের আশপাশে অবস্থিত গাছপালা ও ফসলের ফলনও কমে যায়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলোর এমন ভয়াবহ একটি ক্ষতিকর দিক থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মোবাইল ফোনের টাওয়ারই বসতবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপন করা হয়। কিন্তু এদিকে নজর দেওয়ার মতো যেন কেউই নেই। এভাবে বেশি দিন চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যতে একটি বিকলাঙ্গ প্রজন্ম দেখতে হবে। কারণ গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে এই রেডিয়েশন বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই একটি স্বাস্থ্যকর, সুন্দর এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আর একটি টাওয়ারও যেন বসতবাড়ি আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নির্মাণ করা না হয় সেজন্য সবার সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন। অপরদিকে সরকারেরও এ বিষয়ে কিছু কঠোর নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করা এবং বাস্তবায়ন করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
লেখক :শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
