সড়ক শৃঙ্খলায় একটি প্রস্তাব

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৭

আর কত জীবন বিপন্ন হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে? প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় দেখা যায় সড়কে বিশৃঙ্খলার নানা চিত্র। যার ফল নানা দুর্ঘটনা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট  পর্যন্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় ৫-১৪ আগস্ট দশ দিনব্যাপী সড়ক-নিরাপত্তামূলক ‘ট্রাফিক সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয় এবং এ সময়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে লাখখানেক মামলার পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। পরে পুরো সেপ্টেম্বর মাসকে ‘ট্রাফিক মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও জনসাধারণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য উত্সাহিত করে। বিশেষ করে যখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাস্তায় থাকে, তখন সাধারণ মানুষ ট্রাফিক আইন অমান্য করার সুযোগ পায় না। কিন্তু কথা হচ্ছে, এত বড় একটা আন্দোলন হয়ে যাওয়ার পর, ট্রাফিক সপ্তাহের মতো কার্যকর কর্মসূচি পালন সত্ত্বেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ফুটওভারব্রিজের তেমন ব্যবহার নেই, নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া রাস্তার যেখানে সেখানে যাত্রী নামানো এবং ওঠানো অব্যাহত, চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, লাইসেন্সবিহীন চালক ইত্যাদি কারণে মূলত ঘটছে দুর্ঘটনা, ফিরছে না সড়কে শৃঙ্খলা। এজন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার, বিআরটিএ-কে আরো বেশি তত্পর হওয়া দরকার, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। প্রত্যকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতনতাই পারে সড়কের বিশৃঙ্খলতা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে।

শাহীদুল ইসলাম শাহীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়