নব্য জেএমবি প্রধান সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনের আপন মামা এবার নৌকার মাঝি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র কিনেছেন। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সন্তান নব্য জেএমবি প্রধান সালাউদ্দিনের মামা মোঃ জহির উদ্দিন গত ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কেনেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে নির্বাচন করতে চান। তার ফর্ম নং ২০৮ ও ফর্ম রশিদ নং ২৭৫৮। তিনি জঙ্গি সালাউদ্দিনের নানা বন্দরের মাধবপাশা এলাকার মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে জঙ্গি সালাউদ্দিনকে তার সহযোগীরা একজন পুলিশকে হত্যা করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সালাউদ্দিনের সন্ধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজো পায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ইতোমধ্যে সালাউদ্দিন ভারতে জেএমআই নামক বিশাল জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে সারা ভারত জুড়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে। সে ভারতের খগড়াগড় মন্দিরে বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত। তাকে ধরতে ভারতে সরকারের এনআইএ সংস্থা ৫ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র মতে জঙ্গি সালাউদ্দিনের সহযোগী জঙ্গি জাহিদুলের নেতৃত্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ঝাড়খণ্ডে তাদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই, পুনে ও জম্মু-কাশ্মীরে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার অন্তরালে আত্মগোপনে থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রে প্রকাশ। সেই শীর্ষ জঙ্গি সালাউদ্দিনের মামা দেশে নিজেদের রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে জাহির করতে নৌকার মাঝি হওয়ার আশায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফর্ম কিনেছেন। তার মনোনয়ন ফর্ম কেনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এলাকায় সাধারণ মানুষও এ নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ব্যাপারে সালাউদ্দিনের মামা জহির উদ্দিন বলেন, সালাউদ্দিনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। আমি আওয়ামী লীগ করি, তাই মনোনয়ন পত্র কিনেছি।
এ দিকে, জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিনের মামা জহির উদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের আশায় ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র কেনায় নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তা এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চলতি মাসে জামায়াতের মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহাম্মেদকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেত্রীর সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের কথা ফাঁস করার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
