মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে দরকার দৃঢ় ঐক্য

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৮

মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অসাম্প্র্রদায়িক চেতনার পক্ষের সকল সামাজিক, নাগরিক, পেশাজীবীদের ঐক্য দৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নতুন সরকার : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অর্থনীতিবিদ খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসা ও উন্নয়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, বড় বড় রাস্তা, ব্রিজ নির্মাণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিল্প ও কলকারখানা বিনির্মাণের অর্থ কিন্তু গণতন্ত্র নয়। এর সাথে আইনের শাসন স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার উপর জোর দিতে হবে। তবে এবারের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রী কিছু ঘোষণা ও কার্যক্রম জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক হিসেবে মনে করছি। একই সাথে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংকিং সেক্টরে কঠোর নজরদারি, ঋণ খেলাপী সংস্কৃতি দূর করতে হবে। নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার যুবকদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি বসে নেই তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, চলমান ব্যবস্থার নির্বাচন, রাজনীতে সামাজিক ন্যায় বিচার নিয়ে নানান কথা থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িকতাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পূর্বের যে ঐক্য তা আরো জোরদার করতে হবে। নির্বাচনে ১৪দল বা মহাজোট যে ইশতেহার দিয়েছেন তা অগ্রসর করে নিতে সকলকে সজাগ থাকতে হবে, নাগরিক সমাজ এ বিষয়ে সরকারের সহায়তার তদারকির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি সাম্প্রদায়িকতাবাদী, লুটেরা, ধর্মান্ধগোষ্ঠী যে অর্থনীতির ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় থেকে দেশবাসীকে শঙ্কিত করেছে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নির্বাচনোত্তর নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের যে চিত্র সারাদেশে লক্ষ্য করছি তা জনমনে নানান শঙ্কা তৈরি করছে।

জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, জাতীয় সংসদে জনগণের সংকটের কথা আলোচনা হোক, সমাধানের রাস্তা বের হোক এবং জাতীয় সংসদ হোক জাতীয় অগ্রযাত্রার সূতিগার এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা। আমরা আশা করি নির্বাচনে বিজয়ী সকল সাংসদরা জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত রাখবেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য খুশি কবির, ড. আজিজুর রহমান, জয়ন্তী রায়, ডা. অসিত বরণ রায়, শ্রমিক নেতা আব্দুল ওয়াহেদ, আব্দুর রাজ্জাক। সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সামছী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মামুনুর রশীদ, অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, ইয়াছরেমিনা বেগম সীমা, ছাত্র নেতা শাহজান আলী সাজু, সাংবাদিক সুমন মাহমুদ, আব্দুল হাকিম প্রমুখ।