ইয়েমেন :শান্তিচুক্তির চেষ্টা আর বিমান হামলা চলছে একসঙ্গে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫

রয়টার্স

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ বন্ধে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ; কিন্তু সেখানে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের নিয়মিত বিমান হামলা হ্রাস পায়নি। চলতি সপ্তাহে রাজধানী সানায় তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট, যা চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে উল্লেখ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার সারারাত সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমানগুলো সানায় হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ড্রোন অভিযান পরিচালনার জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহার করা হতো। সৌদি মালিকানাধীন আল অ্যারাবিয়া টেলিভিশন জানায়, রাতের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আল-দুলাইমি বিমান ঘাঁটি, একটি ড্রোন রাখার কেন্দ্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো ছিল। এদিকে বিমান হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আরো কয়েকজন আহত হয়েছে বলে চিকিত্সা সেবা কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সৌদি বিমান হামলায় বেশ কিছু বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানায়, শনিবার সন্ধ্যা থেকে সানার ওপর ২৪ ঘণ্টাব্যাপী বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে চারটি বিমান ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া হামলার শিকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন ধরে নিকটবর্তী বাড়িঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সানার বাসিন্দা আরওয়া আবদুল কারিম রয়টার্সকে বলেন, ‘হামলাগুলো খুবই মারাত্মক ছিল। আমরা এক বছরের মধ্যে এত তীব্র হামলা আর দেখিনি।’

২০১৪ সালে সৌদি সমর্থিত আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে উত্খাত করে হুথি বিদ্রোহীরা। পরে ২০১৫ সালে সরকারের পক্ষে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান। দেশটির প্রায় চার বছর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। ইতিহাসের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেনের কয়েক লাখ মানুষ। এরকম অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বন্দর শহর হোদেইদা থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি চুক্তির চেষ্টা করে যাচ্ছে জাতিসংঘ।

 

 

০