শাম্মী তুলতুল। একাধারে একজন লেখক, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, আবৃত্তিকার, রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালক, নজরুল অনুরাগী ও দাবা খেলোয়াড়। তার লেখায় থাকে সব সময় এক ধরনের বার্তা। আছে সমাজ সচেতন করার এক প্রকার শক্তি। খুব অল্প বয়সেই তিনি দেশ ও দেশের বাইরে লেখনি দিয়ে জয় করছেন মানুষের ভালোবাসা। বর্তমান সময়ে যে তরুণ লেখকদের নাম নেওয়া হয় তুলতুল তাদের মধ্যে অন্যতম।
বাবা আবু মোহাম্মদ খালেদ ও মা কাজী রওশন আখতার। নানি কাজী লতিফা হক বেগম পত্রিকার সুপরিচিত লেখক ও গীতিকার। দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারও একজন লেখক, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা এবং কবি নজরুলের বালকবন্ধু। পরিবার থেকে অনুপ্রাণিত ও নিজের ইচ্ছাশক্তির বলে ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৪টি।
বুকের ভেতর রয়েছে অফুরন্ত গল্পের বাস। সেসব গল্প বলে যেতে চান তার লেখায়। একে একে লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস চোরাবালির বাসিন্দা, বাল্যবিবাহের ওপর লিখিত উপন্যাস পদ্মবু, এইডসের ওপর লিখিত প্রেমের উপন্যাস মনজুয়াড়ি এই বইগুলো যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস চোরাবালির বাসিন্দার জন্য কবি পরিষদ সাহিত্য সম্মাননা। পেয়েছেন বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, কবি নজরুল অগ্নিবীণা সাহিত্য পুরস্কার, রোটারিয়ান পুরস্কার, এস বি এস পি সাহিত্য সম্মাননা, ইঞ্জিনিয়ার খালেক সম্মাননা। কথাসাহিত্যে মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডসহ আরো পুরস্কার। তাছাড়াও গত বছর ২০২০-এ পেয়েছেন জলকথা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার।
জন্ম চট্টগ্রামে হলেও গ্রামের বাড়ি রাউজান। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বিখ্যাত নদী হালদা। যার স্রোতের সঙ্গে জুড়ে আছে একেক গল্প। তার মতে এসব গ্রামীণ গল্পই আমাদের প্রাণ, আমাদের চলার পথে শেখার ভিত্তি। তিনি চট্টগ্রাম টেলিভিশনে নিয়মিত আবৃত্তি ও চট্টগ্রাম বেতারে অনুষ্ঠান গ্রন্থনা করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি কোভিড মানবসেবার জন্য হয়েছেন ময়ূরপঙ্খি ফাউন্ডেশনের ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাম্বাসেডর বাংলাদেশ। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন পাঠাগার আন্দোলন বাংলাদেশের।
শিশু-কিশোরদের জন্য সফল গল্পকার তুলতুল। শিশু-কিশোরদের বই টুনটুনির পাখিস্কুল, নানটু-ঝানটুর বক্স রহস্য, পিঁপড়ে ও হাতির যুদ্ধ, গণিত মামার চামচ রহস্য, দৈত্য হবে রাজা, কচ্ছপ রাজার রাজপ্রাসাদ, একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল—এই বইগুলো দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন শিশুহূদয়ে। এই বয়সে পরপর দুই বার একক বইমেলা হয় তার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে। সেখানে তিনি পান জেলা প্রশাসন সম্মাননা। পর্যটননগরী খাগড়াছড়ির পাঠকরা তাকে ভালোবেসে রাজকন্যা উপাধি দেন।
চট্টগ্রামের মানুষ রক্ষণশীল বলে কোনো বাধা ছিল? জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রক্ষণশীল মানেই নিজেকে থামিয়ে দেওয়া নয়। পরিবারকে দোষারোপ করা নয়। একটা রক্ষণশীল পরিবারে ছেলেমেয়ে উভয়কে নিয়েই তার পরিবার চিন্তা করে। তার মানে এই নয় যে, নিজের প্রতিভাকে নষ্ট করে দেয়। আমার পরিবার সম্পর্কে আমি তাই জানি। রক্ষণশীল বাবা-মা শেখায় নিজেকে নিরাপদ রেখে সব কাজ করতে। তবে চট্টগ্রাম থেকে পুরো বিশ্বে নিজেকে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা অনেকটা কষ্টের যেটা ঢাকা থাকলে অনেকটা সহজ। আমার কাজে যারা বাধা দিয়েছিলেন, সম্ভব না বলে নিরাশ করেছিলেন, তাদের কাছে আমার একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।
