বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী অর্থাত্ মিরসরাই ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট প্রায় ৪ হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এসব প্রতিষ্ঠানের ১২৪৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিশ্চিত হয়েছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে পৌনে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করছে বেজা। এই শিল্পনগরীতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাপানের নিপ্পন স্টিল ও সুজিত করপোরেশন, ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, যুক্তরাজ্যের বার্জার পেইন্টস, চায়নার জিনদুন গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য উত্পাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বেজার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, বেজার গভর্নিং বোর্ড দেশব্যাপী অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে ৮৯টি স্থান অনুমোদন করেছে। ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ডেভেলপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে জি-টু-জি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ অফ-সাইট অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৩টি ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের জন্য অফ-সাইট অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ১৯টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে, এর মধ্যে ৭টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে বলে বেজা সূত্রে জানা যায়।
বেজা পরিচালিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুইটি অংশে মোট ১৩০০ একর জমিতে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। মিরসরাই-ফেনী শিল্প নগরীতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সবমিলিয়ে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে বেজা সূত্রে জানা যায়।
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল
সরকারি ভাবে বাস্তবায়ন হওয়া অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর নামক স্থানে ৩৫২ একর জমির উপর অবস্থিত। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৩১ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বেজা। প্রস্তাবিত শিল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল মহেশখালী উপজেলায় ধলঘাটা মৌজায় প্রায় ৪০০০ একর জমির উপর অবস্থিত। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত ১৫০০ একর জমি বন্দোবস্ত ও অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (ধলঘাটা) ২.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব বেজা অনুমোদন করেছে। বিশ্ববিখ্যাত কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান
এসকে গ্যাস এবং স্থানীয় কোম্পানি সুপার পেট্রোকেমিক্যাল প্রাইভেট লি. এখানে ৪১০ একর জমির উপর এলপিজি, কেমিক্যাল কারখানা প্রতিষ্ঠা করবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড কস্টিক সোডা প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে। এখানে প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার।
ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্প
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জালিয়ার দ্বীপ এবং সাবরাং-এ মোট ৩টি ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে বেজা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নাফ নদীর অভ্যন্তরে বাংলাদেশের জলসীমায় ২৯৩ একর জমির উপর নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যোগাযোগ এবং পর্যটন আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার স্থাপনের লক্ষ্যে বন বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাঁধ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ কোম্পানির সঙ্গে গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর বেজা এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং-এ প্রায় ১০০০ একর জমিতে ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে সড়ক উন্নয়ন, বিদ্যুত্ সংযোগের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সরাসরি জমি বরাদ্দে বিনিয়োগ প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে ১০ হাজার একর জমির উপর একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠায় বেজা কাজ করছে।
বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল
বেজা এযাবত্ মোট ১৯টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৭টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
