বরিশালে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৩

পরিমাণে কম ও বিলম্বে রেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার বরিশালে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। 

সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসের ন্যায় সোমবার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রেশন নিতে আসে। কিন্তু ওই সময় শ্রমিকরা গোডাউনে কাজে যায়। তাদের একটু অপেক্ষা করতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হুমায়ুন কবির, উপ-সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা তপন, নিরাপত্তা প্রহরী রেজাউল করিম ও রেজাউল করিম-২ কে বেদম মারধর করে। একই সাথে সদর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শকের কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং ফাইলপত্র নিয়ে  যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন জানান, প্রতি মাসে তারা সদর উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে রেশন উত্তোলন করেন। প্রতি মাসেই চাল ও গম মিলিয়ে ৪ টনের স্থলে ১শ’ কেজি কম পাওয়া যায়। পরিমাপে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আর রেশন দেবে না এবং দিলেও তাদের ভোগান্তিতে ফেলার হুমকি দেয়। এই ধারাবাহিকতায় ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে দেওয়া রেশন ২০ তারিখেও দেওয়া হয়নি। সোমবার ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেশন আনতে গেলে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীরা টালবাহানা শুরু করে। তারা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাকে (মো. আলাউদ্দিন) চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্য সদস্যরা সদর খাদ্য অফিসে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাউকে মারধর কিংবা ভাঙচুর করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ অজিয়র রহমান ফায়ার সার্ভিস ও খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসক জানান, উভয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।