সিলেটের চারটি সীমান্ত দিয়ে ফের কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন আমাদানিকারকরা। প্রায় একশ কোটি টাকার এলসি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বেকার হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন সীমান্তে কয়লা বোঝাইয়ের কাজে নিয়োজিত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। এ ব্যাপারে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পরিতোষ ঘোষ বলেন, কয়লা আমদানি শুরুর ২৫ দিনের মাথায় ১৫ জানুায়ারি থেকে ফের কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির নেতারা জানান, আমদানি বন্ধ হওয়ায় শুধু দুদেশের ব্যবসায়ীরা নয়, বাংলাদেশ সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা জানান, সিলেটের একটি স্থলবন্দর ও তিনটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন কয়লা আমদানি হতো। প্রতি টন কয়লা আমদানিতে সরকার রাজস্ব পেত প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। সে হিসেবে সরকার প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন খনি থেকে প্রতিদিন সিলেট বিভাগের তামাবিল, বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০ হাজার টন কয়লা আমদানি হয়ে থাকে। দেশের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ করে ভারত থেকে আসা কয়লা। মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার প্রেক্ষিতে পরিবেশগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ২০১৪ সালে কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। এরপর সেদেশের রফতানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকদফা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তোলিত কয়লা রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালত। এতে কয়লা আমদানির সুযোগ পেতেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায় কয়লা আমদানি। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় আদালত মেঘালয়ের বিভিন্ন খনিতে উত্তোলকৃত কয়লা চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রফতানির অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু ভারতের উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগে ১৫ জানুয়ারি কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ে।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি চন্দন সাহা বলেন, প্রায় ৮০০ আমদানিকারকের শত কোটি টাকার এলসি আটকা পড়েছে। কয়লা আমদানি করতে না পারলেও এলসির সুদ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে এখন কয়লা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো বলেন, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানি শেষে কয়লা আমদানির অনুমতি পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
