আসামিকে গ্রেফতার করে আনার পথে পিরোজপুরে হামলার শিকার পাঁচ পুলিশ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৮

পিরোজপুর শহরতলীর কুমারখালীতে এক আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে পাঁচ পুলিশ সদস্য স্থানীয় লোকজনের হামলার শিকার হয়েছেন। রবিবার গভীর রাতে কুমারখালীর সিকদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—সদর থানার এসআই সৈকত হোসেন সানি, এসআই মাহামুদুল হাসান, এসআই মো. খাইরুল হোসেন, এএসআই সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. মারুফ হাওলাদার। পুলিশের ওপর হামলার সময় দুই জন আসামিও আহত হয়েছেন। তারা হলেন—কুমারখালী এলাকার মৃত আনোয়ার সিকদারের ছেলে মেহেদী হাসান সিকদার ও শেখপাড়ার মিঠু দাসের ছেলে শাওন দাস। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. তারেক আজিজুল্লাহ জানান, আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুই জন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এছাড়া আহত দুই জন আসামির মধ্যে এক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি নুরুল ইসলাম বাদল জানান, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সিসি টিভি চুরির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে মেহেদী হাসান সিকদারকে গ্রেফতারের উদ্দেশে রবিবার রাত ১২টার দিকে সদর থানার একদল পুলিশ কুমারখালী এলাকায় অভিযান চালায়। জানা গেছে, মেহেদীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার পথে আসামির আত্মীয়স্বজন তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। মেহেদী হাসান সিকদার পিরোজপুর পৌরসভার সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু সিকদারের বড় ভাইয়ের ছেলে। রাত ১টার দিকে আবু সিকদারের নেতৃত্বে একদল লোক থানায় আসে এবং আটককৃত আসামিকে ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় থানায় অবস্থানরত অন্য পুলিশ সদস্য আগত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আট জনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৬ জনের নামে এবং ৩০/৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে পুলিশের ওপর আক্রমণ ও গুরুতর জখম এবং হত্যার উদ্দেশে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সৈয়দ সিকদার, মেহেদী হাসান সিকদার, শুভ সিকদার, রেজাউল শেখ, সৌরভ খান, আবুয়াল কাজী, শাওন দাস ও ওসমান। এর মধ্য থেকে ছয় জনকে গতকাল সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠান।