ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত কাঁচপুর ২য় সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই নবনির্মিত কাঁচপুর ২য় সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে। সেতুর প্রকল্প পরিচালক সেতু চালুর জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে (সওজ) ইতোমধ্যে পত্র দিয়েছেন। এ দিকে কাঁচপুর সেতুর দুই পাশে মহাসড়কে অসহনীয় যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ভুক্তভোগীরা। সেতুটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
সেতুর প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) দেশের দুটি প্রধান নগর ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এ মহাসড়কটি দুই নগর ছাড়াও এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসাবে বাংলাদেশের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সংযোগ স্থাপন করেছে। দেশের অর্থনৈতিক লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত ক্রমবর্ধমান এ যানবাহনকে ধারণ করতে ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতির উপর নির্মিত সেতুগুলো ২ লেনের হওয়ায় বর্ধিত ট্রাফিক বহনে অসমর্থ্য হয়ে পড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রথম সেতু নির্মিত হয় ১৯৭৭ সালে যা কাঁচপুর সেতু নামে পরিচিত। কাঁচপুর সেতু ছাড়াও মেঘনা ও গোমতি সেতুসমূহের কাঠামোগত অবক্ষয় হওয়ায় এবং নদীর তলদেশে স্কোরিংয়ের ফলে সেতুর পিলারসমূহ হুমকির মুখে পড়ায় সেতুসমূহের আশু পুনর্বাসন/সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সরকার এ সব বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে ও পরিবহন সেবা নিশ্চিতকরণকল্পে জরুরি ভিত্তিতে সেতু সংলগ্ন স্থানে আরো তিনটি নতুন ৪-লেন বিশিষ্ট সেতু নির্মাণ ও বর্তমান সেতুসমূহের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় সরকার জাইকা’র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বর্তমান সেতু সংলগ্ন স্থানে আরো ৩টি নতুন সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেয় এবং ৪টি জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাঁচপুর সেতুসহ ৩ সেতুর নির্মাণ কাজে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৯ম কিলোমিটারে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে কাঁচপুর সেতুর অবস্থান। সেতু নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার ব্যয় জাইকার ঋণ হতে এবং ভ্যাট, আয়কর ইত্যাদি জিওবি হতে অর্থায়ন করা হয়। ব্যয় ৯৫০ কোটি টাকা। ৪ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে শুরু হয়ে ৩ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে নির্মাণ কাজ শেষে হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭.৩০ মিটার, সেতুর প্রস্থ ১৮.১ মিটার, ৪ লেন, স্প্যান ৬টি। সংযোগ সড়ক ঢাকা প্রান্তে ৩৫০ মিটার ও চট্টগ্রাম প্রান্তে ৯০০মিটার।
সেতুর প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি দ্রুত উদ্বোধন করে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ইতোমধ্যে পত্র দেয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় উদ্বোধনের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে। উদ্বোধনের পর যেকোনো দিন যানবাহন চলাচল জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।
সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, সেতুর পুরোপুরি সুফল পেতে সেতুর সঙ্গে সিলেটের সড়কের আন্তঃসংযোগ (উড়াল সড়কের মাধ্যমে সেতুর সঙ্গে সিলেট সড়কের) প্রয়োজন। এ অংশের কাজ সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগবে। তবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের দিকে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সেতুর নিচ দিয়ে ইউটার্ন করে সিলেটে প্রবেশের জন্য রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। সিলেট থেকে সেতু দিয়ে ঢাকার দিকে প্রবেশ করতে উড়াল সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচপুর ২য় সেতুর সব ধরনের নির্মাণ কাজ শেষ। সেতুর দুই পাশ আটকে রাখা হয়েছে। সেতুর উপর নিরাপত্তা কর্মীরা পাহারা দিচ্ছে। এ সময় সেতুর পূর্ব প্রান্তের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে উড়াল সেতুর কাজ চলতে দেখা গেছে। এ উড়াল সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে সিলেট থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সহজেই চলতে পারবে নির্বিঘ্নে। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে যানবাহনের চলাচলের জন্য দ্রুত কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) প্রশাসন মোল্লা তাসলিম হোসেন জানান, কাঁচপুর ১ম সেতুটি দুই লেন থাকায় এবং যানবাহনের চাপ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। এ যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। ২য় সেতুটি উদ্বোধন হলে এ মহাসড়কে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।
