ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা
সিলেটের ওসমানীনগরে ১০ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ফাইজা বেগম (১০) উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মণগ্রামের তুরন মিয়ার মেয়ে। ফাইজার মা-বাবার দাবি পরিকল্পিতভাবে তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, সোমবার বাবা তুরন মিয়া কাজে বাইরে থাকাবস্থায় বিকেলে মা লায়লা বেগম মেয়েকে ঘরে রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাজারে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরের তিরের সঙ্গে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাত্ক্ষণিক ডাকচিত্কার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে ফাইজাকে নামিয়ে আনে। পরে ফাইজাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এদিকে এ ঘটনায় লায়লা বেগম মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিলেও পুলিশ অপমৃত্যু মামলা দায়েরের জন্য শিশুটির মাকে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিশুর মা লায়লা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। থানাপুলিশ অনেকটা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই একটি কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। পিতা তুরন মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি থানায় হত্যা মামলা দায়েরের জন্য লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ বলছে অপমৃত্যুর মামলা দেওয়ার জন্য।
ওসমানীনগর থানার ওসির দ্বায়িত্বে থাকা অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মাছুদুল আমিন বলেন, যেহেতু শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাই প্রাথমিক অবস্থায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
