শুরু হয়েছে বহু প্রত্যাশিত করোনা টিকাদান কর্মসূচি। দেশব্যাপী ব্যাপক হারে শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। টিকা গ্রহণে প্রস্তুত আছেন কি না সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
করোনা টিকা নিয়ে জনমনে একদিকে যেমন উদ্দীপনা কাজ করছে অন্যদিকে সংশয়ও রয়েছে। বিশ্বে আবিষ্কৃত কোনো টিকাই এখনো পর্যন্ত শতভাগ কার্যকর নয়। তাছাড়া আমাদের দেশে করোনার যে টিকা দেওয়া হবে সে টিকার কতটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো পরিষ্কার ধারণা লাভ করতে পারেনি। তার পরও অন্য যে কোনো টিকার চেয়ে অক্সফোর্ডের টিকা অধিকতর কার্যকর বলেই এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও এই টিকা দেওয়া হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে যেহেতু আর কোনো বিকল্প নেই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে, তাই রাষ্ট্রের এক জন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের এই টিকা গ্রহণ করা উচিত।
কামরুজ্জামান
ভাওয়ালগড়, গাজীপুর
চিকিত্সা বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যবিদদের মতানুযায়ী ভ্যাকসিন গ্রহণকেই বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ থেকে পরিত্রাণের সর্বোত্তম সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে টিকাদানের মতো গণকার্যক্রমকে সফল করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা মাফিক নিয়মতান্ত্রিকভাবে টিকা গ্রহণ ও টিকা প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। ভ্যাকসিন গ্রহণ পরবর্তী সময়ে কারো কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাত্রার নিরাময়যোগ্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রকাশ মোটেও ভীতিপ্রদ কিংবা উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতি নয়। তাই টিকাগ্রহণ পরবর্তী এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে দেশের সাধারণ জনগণের মনে এরই মধ্যে যে অহেতুক ভীতির সঞ্চার হয়েছে, তা দূরীকরণে টিকাকেন্দ্রিক ইতিবাচক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণও পরিপালন একান্ত প্রয়োজন। ‘অগ্রাধিকার তালিকা’ অনুযায়ী যথানিয়মে ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গৃহীত এ ‘টিকাদান কর্মসূচি’ সফল করা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব।
ওয়ারেছ আলী খান
সদর, নরসিংদী
বহু জল্পনাকল্পনা ও অপেক্ষার পরে দেশে করোনা টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে উপহার ২০ লাখ ও বাণিজ্যিকভাবে ৫০ লাখ ডোজ টিকা গ্রহণে জনমনে কিছুটা শঙ্কা ও অনাস্থা দেখা দিচ্ছে, যার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ঢাবি জরিপে দেশে তাত্ক্ষণিক টিকা নিতে চায় ৩২ শতাংশ মানুষ। টিকা নিয়ে গুজব ঠেকাতে টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে এবং অনলাইন নিবন্ধনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের টিকা নিতে যেন সমস্যা না হয় সেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মো. সাইমুন
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের এক জরিপে দেখা যাচ্ছে—দেশের মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ টিকাকার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে আগ্রহী এবং আরো ৫২ শতাংশ মানুষ আগ্রহী আছেন, তবে তারা ঠিক এই মুহূর্তেই টিকা নিতে রাজি নন। আমাদের দেশের অনেক লোক ভারতের টিকা সম্পর্কে সন্দেহ, সংশয় ও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সাধারণ মানুষের সংশয় ও শঙ্কা কাটিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে পরীক্ষামূলকভাবে আগে টিকা দিলে সাধারণ মানুষের শঙ্কা অনেকটা কেটে যাবে।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
ধনী ও গরিব রাষ্ট্রের পরিসংখ্যান না দেখে ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি ভূ-রাজনীতি জড়িয়ে পড়ে তাহলে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিয়ে অনেক দেশকেই ভুগতে হবে। মানবিক এ বিপর্যয়ে কোভিড-১৯ টিকা যেন আমরা সবাই পাই, তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া, রংপুর
সর্বপ্রথম বাছাই করা স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ২০ থেকে ২৫ সদস্যকে এ টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা করোনা মোকাবিলায় আরো একধাপ অতিক্রম করেছি। ভ্যাকসিনের সুষম বণ্টনের দিকে আমাদের নজর রাখা অতীব জরুরি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত, এর কার্যকারিতা এবং সুষ্ঠু বণ্টনের ওপর নির্ভর করছে করোনার ভবিষ্যত্।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর
দেশব্যাপী ব্যাপক হরে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। তবে টিকা গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ কিছুটা সন্দিহান, কারণ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত কিছু অপ্রত্যাশিত খবর আমাদের সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। টিকাদান কর্মসূচি একদিকে যেমন করোনা-প্রতিরোধে আশার আলো জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে মানুষের মনে ভীতি তৈরি করেছে। আশা করি, এই ভীতি কাটিয়ে বাংলাদেশের মানুষ করোনার টিকা সাদরে গ্রহণ করবে এবং উপকৃত হবে।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
বহু প্রত্যাশিত টিকা জনজীবনে স্থবিরতার শৃঙ্খল তথা অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধজয়ের অন্যতম একটি হাতিয়ার। টিকার প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে অদূরদর্শী রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা নেতিবাচক খবর আমাদের সন্দেহের যোগান দিচ্ছে। সরকারি প্রচারণার ঘাটতি আমাদের আগ্রহের মাত্রাকে আরো নিম্নমুখী করছে।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম
করোনার টিকাদান শুরু হয়েছে। টিকা গ্রহণের ব্যাপারে কিছু কিছু মানুষ নিজেদের পর্যবেক্ষণের পর হয়তো আগ্রহী হবে। ২০২১ সালকে আমরা করোনামুক্ত বছর হিসেবে দেখতে চাই।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
অবশেষে করোনা ভ্যাকসিনের অপেক্ষার অবসান হলো। টিকাদানের মধ্য দিয়ে সংক্রমণ কমে আসবে ও টিকা নেওয়ার বিষয়ে প্রতিটি নাগরিক আগ্রহী হয়ে উঠবে এটাই প্রত্যাশা।
আবদুল মালেক মিয়া
মিরপুর, ঢাকা
গত বছর করোনার মহামারিতে দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়েছিল। সরকার গণমানুষের জন্য করোনার টিকা কর্মসূচি শুরু করায় জনগন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। করোনার টিকা স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য কামনা করছি।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
অবশেষে টিকা এসেছে। বর্তমান সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত তত্পর থেকেছে। করোনা ভাইরাসের টিকা সংরক্ষণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
আইরিন সুলতানা সন্জু
মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
করোনা ভাইরাসের যে ভ্যাকসিন আসছে এতে সারা বিশ্ব আনন্দিত। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশব্যাপী টিকা দেওয়া শুরু হবে। টিকাদানের বিষয় নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার যাতে না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
মিরপুর, ঢাকা
বাংলাদেশ সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সেই প্রতিষেধক টিকা স্বল্পসময়ের মধ্যে আমাদের হস্তগত হয়েছে এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সেই টিকা গ্রহণ করা। মৌলবাদী কিংবা কোনো ধর্মান্ধ গ্রুপের অপপ্রচারে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন সেদিকে সরকারকে কড়া নজর দিতে হবে।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
করোনার ভাইরাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্পর্কে জনগণকে অধিক পরিমাণে সচেতন করে তুলতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেউ যেন বাদ না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। টিকা বিতরণের ক্ষেত্রে যেন কোনো গাফিলতি না হয় সে দিকে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফ্জু)
রাজশাহী
করোনার আঘাত থেকে বাঁচতে হলে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও কার্যকর প্রতিষেধকের বিকল্প নেই। টিকার ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক খবর টিকা গ্রহণের ব্যাপারে মানুষের উত্সাহ ও আকাঙ্ক্ষায় লাগাম টেনে ধরছে। সবাইকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন। অন্যথায়, টিকাদান কর্মসূচির প্রত্যাশিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
সদর, বান্দরবান
শুরু হয়েছে বহু প্রত্যাশিত করোনা টিকাদান কর্মসূচি। হাজার কোটি টাকা দিয়ে টিকা কেনা হচ্ছে। তাই টিকাদান কর্মসূচি ও তার ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
রিফাত
উত্তরা, ঢাকা
করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই ভ্যাকসিন নিশ্চয়ই সবার জন্য সুফল বয়ে আনবে।
বজলুল করিম
পিলখানা, ঢাকা
করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকা প্রদানের যোগ্য সব মানুষকে দ্রুততম সময়ে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তা-না হলে দেশ থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা যাবে না।
মাসুদ-উজ-জামান
চানখারপুল, ঢাকা
দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তির আশায় অবশেষে টিকা এলো। আমাদের প্রত্যাশা, করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সফলতা বয়ে নিয়ে আসবে। অন্যদিকে টিকাদানের বিষয় নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার যাতে না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
করোনা মহামারির বিপর্যস্ত বিশ্বে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ভ্যাকসিন বা টিকা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় হয়েছে, দেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে আগ্রহী। অনেকেই টিকাদান কর্মসূচির শুরুতেই টিকা নিতে প্রস্তুত নন। আমরা আশা করছি পর্যায়ক্রমে মানুষ টিকা গ্রহণ করবে।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
বহুল প্রতীক্ষিত কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলো। করোনার টিকা বিষয়ে সব ধরনের তথ্য সময়মতো দেশবাসীকে জানানোর পদক্ষেপ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। অন্যদিকে টিকা নিয়ে একশ্রেণির মানুষ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সে বিষয়ও সর্তক থাকা দরকার।
রনী
মানিকনগর, ঢাকা
অবশেষে শুরু হলো করোনা ভাইরাসের পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি। যথাযথভাবে টিকা সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বণ্টন করতে পারাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য কভিড-১৯-এর টিকার কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করা।
খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে শুরু হবে টিকাদান কর্মসূচি। টিকা নিয়ে এখন বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। পর্যায়ক্রমে সব মানুষ এ টিকা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
মো. রবিউল হোসেন রবি
মিরপুর, ঢাকা
