পাপুলের এমপি পদের ভবিষ্যৎ কী

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ০২:১৩

কুয়েতের আদালতের রায়ে দণ্ডিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদের ভবিষ্যৎ কি? লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যকে মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে কুয়েতের আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় সেটি বাংলাদেশের সংবিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, সেক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী থাকবে না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরের বেশি দণ্ডিত হওয়ায় পাপুলের এমপি পদ থাকবে না।

কোনো সংসদ সদস্য গ্রেফতার, আটক বা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী তা সংসদ বা স্পিকারকে জানাতে হয়। তবে পাপুলের বিষয়ে সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ স্পিকারকে এখনো কিছুই জানায়নি।

এ বিষয়ে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেছেন, সংসদ সদস্য পাপুলের বিষয়ে সংসদকে এখনো কেউ কিছু অবহিত করেনি। যা কিছু দেখছি পত্রপত্রিকায়। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্পিকারকে অফিশিয়ালি অবহিত করতে হয়। তাছাড়া যেহেতু দেশের বাইরের আদালতের বিষয়, সেক্ষেত্রে বিষয়টা আরেকটু ভিন্ন। সংসদ বা স্পিকারকে কেউ অবহিত না করলে তো আমরা নিজ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না।

পাপুলের বিষয়ে সংসদ কিংবা স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘কুয়েতের সরকার বা সেদেশের আদালত যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কিছু জানিয়ে থাকে তাহলে মন্ত্রণালয় সংসদকে অবহিত করতে পারে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কিছু জানানো হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

আরও পড়ুন: কুয়েতে পাপুলের ৪ বছরের জেল, ৫৩ কোটি টাকা জরিমানা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সংসদকে কিছু জানায়নি। অধিবেশন চলাকালীন যদি অবহিত হই তাহলে সেটি সংসদকে আমি জানাব, আর যদি অধিবেশন না থাকাবস্থায় অবহিত হই তাহলে সংসদ সদস্যদেরকে চিঠির মাধ্যমে জানাব, এটাই তো নিয়ম।’ এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, কুয়েতে বাংলাদেশের যে এম্বেসি রয়েছে তারাও তাদের প্যাডে সংসদ বা স্পিকারকে বিষয়টি অবহিত করতে পারে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে ‘সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা’ সম্পর্কে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে—‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি :(ক) কোনো উপযুক্ত আদালত তাকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করে। (খ) তিনি দেউলিয়াঘোষিত হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি না পেয়ে থাকেন। (গ) তিনি যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন। (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।’

ইত্তেফাক/এসআই