নিউ নরমালেও সিনেমা মুক্তির ভয় কাটছে না প্রযোজকদের!

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৩৭

তানভীর তারেক

গতকাল ছিল মাসের শেষ শুক্রবার। অথচ শুক্রবার মানেই দেশব্যাপী নতুন ছবি মুক্তির যে রীতি তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে ইন্ডাস্ট্রি। এ মাসে কোনো নতুন ছবি মুক্তি নেই! অথচ সিনেমা হল খোলা ও নিউ নরমাল লাইফে সকলেই অভ্যস্ততা গুনছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো গত ১ মাসে ২১টি ছবির ঘোষণা ও কিছু কিছু ছবির মহরতও হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। তবে নতুন ছবি মুক্তির ব্যাপারে এখনো সেই একই নাজুকতা! এ প্রসঙ্গে দেশের প্রখ্যাত নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু বলেন, ‘সবারই তো লগ্নিকৃত টাকা রিটার্ন চাইবে। আমার নিজেরও একটি ছবির সবকিছু চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই এই করোনা সংকটে সব পরিকল্পনা ধুলিস্যাত্ হয়ে গেল।’

দেশের শীর্ষ তারকা শাকিব খান বছরে ৬টি ছবি মুক্তির ঘোষণা দিলেও গত ১ বছরের পরিসংখ্যানে ২টি নতুন ছবি প্রকাশ পেয়েছে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার মানেই হলে নতুন ছবি সেই রীতি থেকে সরে আসছে ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি অন্য তারকাদের বিচ্ছিন্নভাবে ছবি রিলিজ হলেও হল দর্শকের হিসেবে হতাশ হয়ে পড়ছে সকলেই।

এদিকে অধিকাংশ সিনেমা তারকা ওটিটি প্লাটফর্মের দিকেই ঝুঁকছেন। স্মার্ট প্রযোজক-পরিচালকরা লবি করছেন তার ছবিটি প্রাইম অ্যামাজন বা নেটফ্লিক্সে রাখা যায় কি-না! অনেকেই এটাকে আলাদা মর্যাদার জায়গাতেই রাখতে চাইছেন। এরই ভেতরে বাংলাদেশি বেশকিছু ছবি নেটফ্লিক্সে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্মে বাংলাদেশি ছবি কত রেভিনিউ পায় তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে সিনেমার লগ্নি উঠানোর অন্যতম প্লাটফর্ম হিসেবে এখন ওটিটিই ভরসা।

অন্যদিকে, সারাবিশ্বের তারকাদের মতো ওয়েব সিরিজেও আগ্রহ রয়েছে তারকাদের। কারণ সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাণ শুরু হওয়া থেকে রিলিজ নিয়ে যে সংকট দেখা দেয় তাতে সেই অনিশ্চয়তার ক্যারিয়ার থেকে বাঁচতে অনেকেই ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাপী দর্শক চাহিদার নতুন ট্রেন্ড হিসেবে সিরিজের চাহিদা বেড়েছে। তাই সিনেমা হল খুললেও হলে দর্শক ফেরানোটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প উপায়েই প্রযোজকরা লগ্নিকৃত টাকা তোলার ব্যবস্থা করছেন। এর ভেতরে শাকিব খান অভিনীত নবাব এলএলবি দেশীয় অ্যাপে রিলিজের ক্ষেত্রেও দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্মকেও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এখন প্রয়োজন পুরোদস্তুর পেশাদার প্লাটফর্ম। এক্ষেত্রে দেশে কয়েকটি অ্যাপ কাজ করলেও তা অপ্রতুল বলেই মনে করেন একাধিক নির্মাতা। তবু ছবি নির্মাণ চলছে। এ মাসে ২১ ছবির ঘোষণা এলেও এর অর্ধেকও যদি ঠিকঠাক সময়ে শেষ হয় তাহলে সপ্তাহে একাধিক ছবি রিলিজের শিডিউল করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ছবির ঘোষণা অনুযায়ী বছরে শতকরা ৫০ ভাগ ছবিও শেষ হয় না। পাশাপাশি বর্তমান হলবিমুখতায় ছবি শেষ করেও প্রযোজকের আলমারিতে তা আটকে রাখা হয় লোকসানের ভয়ে। এই ভয় কাটবে কীভাবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবুও আশার বিষয় শাপলা মিডিয়া, লাইভ টেকনোলজিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ছবি নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

 

 

শাকিব খান: বছরে ৬টি ছবি মুক্তির কথা বললেও সার্বিক সংকটের জন্য পারেননি

 

জিয়াউল রোশান : সম্প্রতি একই প্রযোজকের ৩টি ছবিতে সাইন করেছেন

 

নুসরাত ফারিয়া : কোনো প্রতিবন্ধকতা বা সংকটই যেন নুসরাত ফারিয়ার নিয়মিত কাজকে থমকে দিতে পারে না