সিলেটে থামছে না মাদকের বিস্তার!

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৮

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

সিলেটে মাদকের বিস্তার থামছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রায়ই ধরা পড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও এর বহনকারীরা। এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন নারীরাও। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর উপশহর থেকে রোকসানা আক্তার (৩৬) নামের এক নারীকে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা। রোকসানা জকিগঞ্জের এওলাসার এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মাদক আইনে মামলা করে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল রোকসানাকে গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেন। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি ইয়াবা বিক্রির সময় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোকন উদ্দিন ভুঁইয়া (৪০) ও এক নারীসহ পাঁচ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে ১৮২ পিস ইয়াবা ও নগদ ৮২ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, আটক এসআই মো. রোকন ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদকসহ ধরা পড়লে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে সিলেট আর্মড পুলিশে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে তিনি মাদক ব্যবসা করতেন। আটক এই পাঁচ জন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মাদক ব্যবসায় রুকনের সঙ্গে কারা কারা জড়িত এবং এর উত্স কোথায় তারও অনুসন্ধান চলছে বলে জানান এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) আশরাফ উল্লাহ। সূত্র মতে, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পথে মাদকের চালান ঢুকে সড়ক ও রেলপথে  রাজধানীর ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যায়। সিলেট সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ এসে থাকে। সূত্র জানায়, এর আগে জকিগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহরিয়ার রহমান ইয়াবাসহ নগরীর দরগাগেটে আটক হন। একইভাবে ইয়াবা পাচারের ঘটনায় আটক হন জকিগঞ্জের খলাছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহিন আহমদ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহাব উদ্দিন। জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুল জাহের জানান, গত বছরে জকিগঞ্জ থানায় ইয়াবাসংক্রান্ত মামলা হয় ১০৯টি, গ্রেফতার হয় ১৪৯ জন। সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। তিনি সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।