রিয়ানার ‘সোর্ড অব অনার’

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫০

  নূর ইসলাম হাবিব

 

বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রায় একটি উজ্জলতম নাম ফ্লাইং অফিসার রিয়ানা আজাদ। তিনি বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে প্রথম নারী পাইলট যিনি প্রশিক্ষণকালে সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ কৃতিত্বের জন্য সোর্ড অব অনার লাভ করেন। এটি সামরিক বাহিনীর প্রাক কমিশন প্রশিক্ষণকালীন সর্বোচ্চ সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। কোর্সের সর্বশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট ক্যাডেটকে সোর্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

ফ্লাইং অফিসার রিয়ানা আজাদ গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ৭৫ নং বাফা কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে জিডি (পি) শাখায় নারী বৈমানিক হিসাবে কমিশন লাভ করেন। এদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তাকে প্রশিক্ষণে সেরা চৌকস কৃতিত্বের জন্য এক বর্ণাঢ্য  কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সোর্ড অব অনার প্রদান করেন।

সোর্ড অব অনার প্রাপ্তিতে  তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ফা্লইং অফিসার রিয়ানা আজাদ বলেন, সামরিক বাহিনীতে একাডেমির দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সবচাইতে সম্মান ও গৌরবের প্রতীক সোর্ড অব অনার পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিএএফ একাডেমিতে আমার সিনিয়রদের স্মরণ করছি যারা আমাকে প্রশিক্ষণকালে প্রতিটি বিষয়ে হাতে কলমে শিখিয়েছেন। সেই সাথে আমি আমার দক্ষ প্রশিক্ষকগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা তাদের ঐকান্তিক চেষ্টা ও আন্তরিকতা সহকারে আমাকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হয়ে ওঠার ব্যাপারে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। সর্বোপরি মহান আল্লাহতা’আলা ও আমার বাবা-মায়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার প্রতি বাবা-মায়ের অনেক শ্রম ও আল্লাহর দয়ায় আমি আজ এই বিরল সম্মানের অধিকারী হয়েছি। তাছাড়া আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কেননা তিনিই সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার পরে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্তিতে তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রিয়ানা আজাদ বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সুশৃঙ্খল বাহিনী। বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃপ্ত প্রত্যয়ে উজ্জীবিত এই বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হতে পেরে আমি গর্বিত। ছোট বেলা থেকে নীল আকাশে উড়ন্ত বিমান দেখে মনের কোণে উঁকি দিয়েছিল আকাশে ওড়ার স্বপ্ন। আজ সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করায় আমি সত্যি আনন্দিত।

তিনি বলেন, বিমান বাহিনী একাডেমিতে একজন প্রশিক্ষণার্থীকে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের একজন সুনাগরিক সর্বোপরি ভাল মানুষ হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। “Discipline, Integrity and Excellence in all we do” এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে একজন সত্, নির্ভীক ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য এই একাডেমির রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। এই একাডেমির সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আমি মুগ্ধ। ফ্লাইং অফিসার রিয়ানা আজাদের  সাথে আলাপকালে জানা যায়, তারা তিন ভাই বোন। তিনি সবার বড়। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা মহানগরীতে। গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। লেখাপড়া করেছেন উত্তরা রাজউক মডেল কলেজে। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন যথাক্রমে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে। উভয় পরীক্ষায় ফলাফল জিপিএ ৫। তাছাড়া রিয়ানা জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য মেধাবৃত্তি লাভ করেন। একাডেমিক লেখাপড়া শেষে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ফ্লাইট ক্যাডেট হিসাবে বিএএফ একাডেমিতে যোগদান করেন। তার ছোট ভাই নটর ডেম কলেজে অধ্যয়ন করছে। ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। রিয়ানা আজাদের বাবা আবুল কালাম আজাদ পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। চাররি করছেন কুয়েত এয়ার ওয়েজে। মা তাসলিমা আক্তার গৃহিণী।

রিয়ানার বাবাও মেয়ের অসামান্য সাফল্যে গর্বিত। তিনি বাংলাদেশের মেয়েদেরকে সামরিক পেশায় যোগদানের সুযোগ করে দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তাছাড়া তিনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানান।                        লেখক: সহকারী পরিচালক (বিমান), আইএসপিআর