নাহিদের নান্দনিকতা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫২

  রুমান হাফিজ

 

খুলনার মেয়ে নাহিদ নেওয়াজ চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। সাংস্কৃতিক নানা অঙ্গনে কাজ করলেও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১৭ সালে নিজের প্রথম আবৃত্তি অ্যালবাম ‘পরিচয়’ বের করেন। প্রথম অ্যালবাম হিসেবে একটু চিন্তা কাজ করছিলো, তবে সবার পজেটিভ সহযোগিতা আমাকে আত্মতৃপ্তি না করলেও নিজের কাজের প্রতি আরেকটু অনুপ্রাণিত করেছে নিঃসন্দেহে।

ছোট্টবেলা থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে তার সরব পদচারণা। বাবা মোস্তফা ঢালী ও মা সুলতানা বেগমের উত্সাহে পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল সব কাজে তত্পর ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই লেখালেখি ও আবৃত্তি জগতে পথচলা শুরু। শিশু একাডেমির রচনা প্রতিযোগিতায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। খুলনা ডিবেটিং সোসাইটির হয়ে অংশ নিয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক খেতাব। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্কুলশিক্ষকের অনুপ্রেরণায় যুক্ত হন খুলনা লেখিকা সংঘে। লেখালেখির পাশাপাশি গানের প্রতিও তার বেশ আগ্রহ। পারিবারিকভাবে গানের প্রতি সমর্থন না থাকায় এক্ষেত্রে খুব এগুতে না পারলেও অবশ্য বন্ধুদের উত্সাহে রবীন্দ্র সংগীত শিখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের নিয়ে ‘উন্মীলন শিল্প ও সাহিত্য ভুবন’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন করেন। শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষকরা ক্লাস নিতেন সেখানে। একপর্যায়ে নিজেই কিছু করার চিন্তা-ভাবনা থেকে ‘শব্দ নোঙ্গর’ আবৃত্তি সংগঠনে আবৃত্তি চর্চায় মনোযোগ দেন। আবৃত্তি অঙ্গনে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার পাশাপাশি উপস্থাপনা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করছেন বেশ সুনামের সাথে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের কর্মশালায় আবৃত্তি ও উপস্থাপনার ওপর ক্লাসও নিয়ে থাকেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রাঙ্গামাটি বেতারে অনুষ্ঠান ঘোষিকা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম শাখায় আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও অভিনয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় প্রতিবাদী কণ্ঠে অগ্রণী ভূমিকার দরুন ‘সাহসিকা জননী’ উপাধি পান নাহিদ। নিজের ব্যাপারে নাহিদ নেওয়াজ বলেন, পেশা জীবনে আদর্শ শিক্ষক হতে চাই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে, কেমন হওয়া উচিত এ নিয়ে সঠিক কোনো বিধি-বিধান নেই। যা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। নারী ও শিশুদের নিয়ে সামাজিক ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চা বিষয়ক সচেতনতামূলক কাজ করার স্বপ্ন দেখি।