সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় রাবা খান। মূলত শখের বশে মজার ছলে নিজের করা নানা ভিডিও আপলোড করেন, আর সেগুলোও ছড়িয়ে যায় খুব দ্রুত। যারা সামাজিক যোগাযোগের সাইটে সময় কাটাতে একটু মজা বা আনন্দ খুঁজে নেওয়ার জন্য অনেকেই নিজেদের নিউজফিডে বিভিন্ন ভিডিও দেখেন, তাদের কাছে রাবা খানের নামটি দ্রুতই পরিচিত হয়ে উঠেছে। এবারের আয়োজনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
আপনার জনপ্রিয়তার পিছনের কারণ কী? শুরুতেই এ প্রশ্ন ছুড়ে দিলে রাবা খানের উত্তর, ‘যখন আমি সোশ্যাল সাইটে ভিডিও আপলোড করা শুরু করি, তখন তো জনপ্রিয় হওয়ার চিন্তা ছিল না। মজা করতাম, সেগুলো ভিডিও করে টাইমলাইনে শখের বশে শেয়ার করতাম। প্রতিদিনকার চেনা জিনিসের মধ্যে একটু টুইস্ট দিয়ে হিউমার তৈরি করার ভাবনা থাকত। ভাবতে পারিনি সেগুলো এত দ্রুত ভাইরাল হতে শুরু করবে।’
আন্টিদের কথোপকথন সাধারণ কেমন হয় অথবা টিপিক্যাল মায়েরা সন্তানের সঙ্গে কীভাবে কথা বলে, তাদের কথার ধরন নকল করে নানা অঙ্গভঙ্গির মজার ভিডিও শেয়ার করেন রাবা। ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট আর শেয়ারের মাধ্যমে এগুলো দেখছেন লাখ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী। এ ভিডিওগুলোই তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে এই জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি কেবল সোশ্যাল মিডিয়াতেই আটকে নেই, মঞ্চেও দেখা মিলছে তার। আকর্ষণীয় কণ্ঠ ও উপস্থাপনার জন্যও দর্শক তাকে পছন্দ করছে। যেমন মাসদুয়েক আগে রাবা খান ঢাকা লিট ফেস্টে ‘উইমেন অ্যান্ড উইট’ নামের একটি সেশনে অংশ নেন। সেখানে দর্শকসারিতে কোনো আসন খালি ছিল না। রাবার রসবোধ উপভোগ করতে অনেকেই পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেসময় রাবা মজা করে বলেন, ‘আমার মা বলেন এত ভাঁড়ামো করলে তো বিয়ে হবে না।’ পরে ভাইরাল হয় এই কথাটিও!
রাবার জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। তবে সদ্য আঠারো পেরোনো এই তরুণী পাঁচবছর বয়সেই বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। সম্প্রতি এ লেভেল সমমানের একটি কোর্সে পড়া শেষ করেছেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, পড়তে চান বিজনেস স্টাডিজে। বছর পাঁচেক আগে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে করতে ‘আস্ক.এফএম’-এ মজা করে অনেকের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেন। আর বন্ধুরাও তাকে ডাকতেন ঝাঁকানাকা। এভাবেই পেয়ে যান ‘ঝাঁকানাকা প্রোজেক্ট’ নামটি। তারপর ২০১৪ সালে তিনি ও তার ভাই ফাহাদ রিয়াজ মিলে এই নামে চালু করেন ইউটিউব চ্যানেল। ধীরে ধীরে তাদের আপলোড করা কমেডি ভিডিওর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে শুরু করলেও এখন ফেসবুকেই বেশি সক্রিয় রাবা। বর্তমানে ফেসবুকে রাবা খানের ফলোয়ার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার ও ইন্সটাগ্রামেও সমানসংখ্যক ফলোয়ার তার। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জন্যই যে এই তরুণীর পরিচিতি, তা নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি কাজ করছেন এফএম রেডিওতে আরজে হিসেবে। এবিসি রেডিওতে প্রেমবিষয়ক কথোপকথন নিয়ে ‘মডার্ন পিরিতি’ ও সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল নিয়ে ‘বলিটক’ নামের দুটি শো হোস্ট করছেন। রেডিওতে তার আরজে হওয়ার ঘটনাটাও মজার। বয়স যখন মাত্র পনেরো, তখন তার তৈরি ভিডিও দেখেই সেখানকার হেড অব প্রোগ্রাম আরজে সার্জিনা নিজে যোগাযোগ করেন। এরপর রাবা ও তার ভাই ফাহাদ রিয়াজ একসঙ্গে আরজে হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
রাবা খান বললেন, ‘এতদিন শুধু পুরুষেরাই কমেডি করতেন। এখন কমেডিয়ান হিসেবে নারীর জনপ্রিয়তাও বিশ্ব্যব্যাপী বাড়ছে। আর ফেসবুক বা ইউটিউবে সাধারণত সেই ভিডিওগুলোই বেশি ভাইরাল হয়, যেগুলো দেখে মানুষ আনন্দ পায়। আমার বিভিন্ন ভিডিওতে আমি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি।’
আনন্দের ফাঁকে কোনো তথ্য, বার্তা বা মেসেজ দেওয়ার ভাবনা থাকে কি না, জানতে চাইলে রাবা বললেন, ‘সত্যি কথা হলো যে ইনফরমেটিভ বা সিরিয়াস ভিডিও কম-ই দেখে মানুষ। বেশি খোঁজে ফানি কন্টেন্ট। আমার ভিডিওতে আমি সরাসরি কোনো মেসেজ দিই না, তবে পরোক্ষভাবে একটা মেসেজ দেওয়া হয়ে যায়। যেমন ধরুন আমি ‘কুটনামি’ করার অভ্যাসকে ব্যঙ্গ করে কিছু একটা বললাম। আল্টিমেটলি এতে এই অভ্যাসকে নিরুত্সাহিত করা হলো।’
