বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দুই তরুণের উদ্ভাবন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৭

>> মাশরুবা সুহা

 

দেশে বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বাল্যবিবাহ রোধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে বা গোপনে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে এসব হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা দেখা যায় বেশি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মো. আলমাস হোসাইন শাজা ও মো. ইউসুফ জামিল রনি উদ্ভাবন করেছেন বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ প্রতিরোধে এক প্রযুক্তি।

এই সমস্যা সমাধানে প্রোজেক্টের অংশ হিসেবে এই দুই তরুণ উদ্ভাবন করেছেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কিত একটি ডিভাইস। যেটি বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা ‘বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম ফর প্রিভেন্টিং ইলিগ্যাল ম্যারেজ’ ডিভাইস তৈরি করেছেন। যার মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানের ভিত্তিতে বিয়ে নিবন্ধন, বর-কনের পূর্বোক্ত বৈবাহিক অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সহজেই জানা যাবে। এই ডিভাইসটির মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত বর-কনের জন্মনিবন্ধন/ভোটার আইডি নাম্বার বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানের মাধ্যমে পূর্বোক্ত বৈবাহিক অবস্থা, প্রকৃত বয়স ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি জানা যাবে। নির্ধারিত দেনমোহর ও এর পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন ফি-এর ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া বিবাহ নিবন্ধন ফি সফটওয়্যার নির্ধারিত পিন নম্বরের বদৌলতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর/মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিশোধ করে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করলে রাষ্ট্র বিবাহ নিবন্ধন বাবদ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রোজেক্টের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দুই শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নামক অভিশাপ থেকে আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্র মুক্তি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’