আইকিউ স্কোরে আইনস্টাইনের চেয়েও এগিয়ে ওরা!

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০১

 

>> মামুনুর রশিদ রাজিব

 

‘আইকিউ টেস্ট’ একটা মেধা পরীক্ষার ব্যবস্থা। ‘আইকিউ’-এর পূর্ণরূপ হলো ‘ইনটেলিজেন্স কোশেন্ট’। আইনস্টাইনের সময় আইকিউ নির্ধারণের তেমন কোনো পদ্ধতি ছিল না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আইনস্টাইনের আইকিউ স্কোর আনুমানিক ১৬০ ধরে আইকিউ টেস্টে অংশগ্রহণকারীদের স্কোর পর্যালোচনা করা হয়। আর আইকিউ পরীক্ষার এই কাজ নিয়মিত করে চলেছে ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত মেনসা ফোরাম। কিন্তু যেখানে সাধারণ মানুষদের মধ্যে শতকরা ৩ জনের আইকিউ স্কোর ১৩০ বা তারচেয়ে বেশি, সেখানে যদি জানা যায়, কজন সাধারণ কিশোর-কিশোরীর আইকিউ স্কোর হলো ১৬২। অর্থাত্ বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের চেয়েও তাদের আইকিউ স্কোর ২ পয়েন্ট বেশি। তাহলে নিশ্চয় আঁতকে উঠবেন? হ্যাঁ, সম্প্রতি আইকিউ টেস্টে ১৬২ স্কোর করা এমন ৪ জন কিশোর-কিশোরী হলেন নিকোলা বার, অওম আমিন, অর্ণব শর্মা ও লিডিয়া সেবাস্তিয়ান।

 

নিকোলা বার

১২ বছর বয়সী নিকোলা বারের দেশ ইংল্যান্ড। কিন্তু বয়স ১২ হলেও বুদ্ধির পরীক্ষায় নিকোলা বিজ্ঞানী আইনস্টাইনকে ছাড়িয়ে মেনসার পরীক্ষায় স্কোর করেছে ১৬২! মেনসার মতে, ‘কারও আইকিউ স্কোর যদি ১৪০-এর বেশি হয়, তবে সে জিনিয়াস বা প্রতিভাধর। আর নিকোলার আইকিউ স্কোর বলে দেয় সে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাধর ১% মানুষের একজন।’ বাবা সাধারণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেমস এবং মা ডলি বাকল্যান্ডের মেয়ে নিকোলা হার্লোতেই বার্ন্ট মিল একাডেমি নামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। পড়াশোনার বাইরে নিকোলা গান ও নাটক বেশ পছন্দ করে। তার মা ডলি বলেছেন, ‘নিকোলা কঠোর পরিশ্রমী মেয়ে। সে বড় হয়ে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চায়।’ এই স্কোর অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নিকোলা বলেছে, ‘এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত! আমি ফলাফল শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।’

অওম আমিন

অওম আমিনের আদিনিবাস ভারতের গুজরাটে হলেও বর্তমানে ইংল্যান্ডেই বসবাস করছে সপরিবারে। বার্নেটের কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুলের শিক্ষার্থী ১১ বছর বয়সী আমিনের মেনসার পরীক্ষায় স্কোর ছিল ১৬২। যা আইনস্টাইনের থেকে ২ পয়েন্ট বেশি।

চিকিত্সশাস্ত্র ও প্রকৌশল বিদ্যার আগ্রহী এই বালক বড় হয়ে সার্জারিতে কাজে লাগবে এমন রোবট তৈরি করতে চায়। অসাধারণ স্কোর অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অওম আমিন বলেছে, ‘যদিও আইকিউ পরীক্ষায় আমি তাদের থেকে বেশি নম্বর পেয়েছি তবুও আমি বলব না আইনস্টাইন কিংবা স্টিফেন হকিং থেকে আমার বুদ্ধি বেশি। তাদের প্রতিভা অসাধারণ এবং তারা আমার স্বপ্নের নায়ক। আমি তাদের মতোই হতে চাই।’

অর্ণব শর্মা

ভারতের অর্ণব শর্মা বসবাস করছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের রিডিং শহরে এবং পড়ালেখা করছে শহরের ক্রসফিল্ড স্কুলে। মেনসার কঠিন বুদ্ধির পরীক্ষায় ১১ বছর বয়সী অর্ণব বসেছিল কোনোরকম পূর্বপ্রস্তুতি এবং প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে কোনো প্রকার ধারণা ছাড়াই। কিন্তু, পরীক্ষায় স্কোর করে বসে ১৬২! অর্ণবের মা মিশা ধামিজা শর্মা জানান ছেলের যখন বয়স মাত্র আড়াই বছর, তখনই তার প্রতিভা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন। তখনই এক শ’রও বেশি গুনতে পারত গণিতে বেশ ভালো করা অর্ণব। এরই মধ্যে লন্ডনের ইটন কলেজ ও ওয়েস্টমিনিস্টারে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ ও গানের প্রতিও আগ্রহ আছে তার। ৮ বছর বয়সেই রিডিংয়ে আয়োজিত একটি নাচের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে স্থান করে নিয়েছিল সে।

লিডিয়া সেবাস্তিয়ান

আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোরী লিডিয়া সেবাস্তিয়ান। আর দশটা সাধারণ কিশোর কিশোরীর মতোই হ্যারি পটার সিরিজের দারুণ ভক্ত সে। নিয়মিত স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে। তবে একটু ব্যতিক্রম তো আছেই। তা না হলে তো মেনসার কঠিন আইকিউ পরীক্ষায় ১৬২ স্কোর তোলে কী করে! লিডিয়ার ভাষ্যে, ‘প্রথমদিকে আমি খুবই নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু যখন আমি পরীক্ষাটি দিতে শুরু করি তারপর সবকিছু সহজ লাগতে শুরু করল। ভয় অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। তবে, ফলাফল এতটা ভালো হবে ভাবতেও পারিনি।’ এ মেয়ের শুধু পড়াশোনা নয়, অন্যান্য বিষয়েও দারুণ দখল রয়েছে। ভবিষ্যতে মেয়ের কাছ থেকে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় রয়েছে লিডিয়ার বাবা-মাও।