ভিয়েতনামের তনকিন। ছবির মতো সুন্দর এক পাহাড়ি গ্রাম। এই গ্রামেই থাকে বাবা-মা হারা দুই ভাই। বড় ভাই ভীষণ লোভী। সে বাড়িতে বসে সম্পত্তি ভাগের দুষ্টু বুদ্ধি আঁটে। ছোট ভাই বাবা-মার শেষ কাজ সেরে দেখে সব ধনসম্পদ হাওয়া!
তাকে দেখে বড় ভাই খুব অবাক হয়।
ছোট ভাই বড় ভাইকে শুধোয়, ‘বাবার ধনসম্পদ কোথায়?’
বড় ভাই বলে, ‘গরিব বাবা শুধু বাড়িটাই রেখে গেছেন।’
দুষ্টু বুদ্ধিতেই বড় ভাই বাড়ি, ধনসম্পদ ও ষাঁড়—সবকিছুর মালিক। ছোট ভায়ের ভাগে কেবল পাথুরে পাহাড়ের নিচে এক টুকরো ধানের জমি। বাড়ির বুড়ো কুকুর-বেড়ালও তার সাথি হয়।
ছোট ভাই পাথুরে জমিতে ধান চাষের উপায় খোঁজে। কিন্তু কিভাবে! সে দুই প্রাণীর কাঁধে লাঙল বাঁধে। কুকুর ও বেড়াল অনেক কষ্টে ধানের জমি চষে বেড়ায়। সে এক হাস্যকর দৃশ্য!
এমন করুণ দৃশ্যে পাথর দেবতার ভীষণ কষ্ট হয়। পাথুরে জমি চাষ কি সোজা কথা! দেবতা তার মোটা শরীর ঝঁকিয়ে আর নাক কুঁচকে এক বিরাট হা করে।
আচমকা গুড়ুম গুড়ুম শব্দে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়। পাহাড়ের চূড়ায় পাথর দেবতার গর্তওয়ালা মুখে রাজ্যের সোনা-রূপা চকচক করছে। আর দেরি না করে ছোট ভাই দেবতার হা-করা মুখে ঢুকে পড়ে। দেবতার মুখ বন্ধ হওয়ার আগেই এক বস্তায় যতটা পারে সোনা-রূপা ভরে ছুট দেয়।
ছোট ভাই মূল্যবান সব ধনসম্পদ নিয়ে গ্রামে ফেরে।
ছোট ভায়ের প্রচুর ধনসম্পদে বড় ভায়ের ভীষণ লোভ হয়। সে ছোট ভায়ের কাছে সম্পত্তি পাবার গল্প শোনে।
সেই মতো বড় ভাই পাহাড়ে যায়। সঙ্গে বউ, কুকুর ও বেড়াল আর সোনা-রূপা আনার এক গরুর গাড়ি।
ছোট ভাইয়ের কথা মতো কুকুর-বেড়ালের গলায় লাঙল জোড়ে। চাবুকের ঘায়ে দুটি প্রাণী পাথুরে ধানখেতে ঘুরে বেড়ায়। আর সোনা চমকায় পাথর দেবতার বিশাল হা-করা মুখে।
জমি চাষ রেখে বড় ভাই ও ভাবি সোজা পাথরের চূড়ায়। তারা দেবতার হা-করা মুখে ঢুকে বস্তার পর বস্তা সোনা পুরতে থাকে।
এমন লোভে দেবতার ভীষণ ক্রোধ হয়। এক পলকে তার হাসিমুখ কুঁচকে যায়। আচমকাই বন্ধ হয় দেবতার বিশাল মুখ। সর্বনাশা লোভেই তারা প্রাণ হারায়।
রূপান্তর: কুতুব আজাদ
