হোয়াটসঅ্যাপে একজন ব্যবহারকারী একটি বার্তা পাঁচবারের বেশি শেয়ার করতে পারবে না। ফেসবুক ছয়মাস পূর্বেই ভারতে তাদের এই নীতিটি চালু করেছে। এই পদক্ষেপটি গ্রহণের ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফেক নিউজ শেয়ার করা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা একটি বার্তা ২০ বার প্রেরণের সুবিধা পেয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার একটি ইভেন্টে অ্যাপটির আপডেট সংক্রান্ত নিয়মাবলী ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী এপ্রিলে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বার্তা প্রেরণের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বিশ্বব্যাপী কমে আসবে’। তিনি আরো বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপের কারণে নিকটবর্তীদের কাছে ব্যক্তিগত বার্তা প্রেরণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করবো এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল কনটেন্টের বিষয়ে অনুসন্ধান করবো।’
২৫৬ জনের একটি হোয়াটসঅ্যাপের দল তৈরি হতে পারে। একজন ব্যক্তি একটি বার্তা ১২৮০ জনকে প্রেরণ করতে পারে যা আগে ৫১২০ জনকে প্রেরণ করতে পারতো।
আর আগে ব্রাজিলের নির্বাচনে হোয়াটসঅ্যাপের অপব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত ফেক নিউজ যুদ্ধে প্রথম সারিতে রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে তাদের ব্যাপক অপব্যবহারের পরে। তবে, বর্তমানে একজন ব্যবহারকারী পাঁচবারের বেশি একটি বার্তা প্রেরণ বা গ্রহণ করতে পারবে না। ফেক নিউজ ছড়ানোর বিপক্ষে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ একসঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ফেস নিউস ছড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।
গত সপ্তাহের ঘোষণানুযায়ী, তারা সেন্ট্রাল ইউরোপ, ইউক্রেন এবং ইউরোপিয়ান অন্যান্য দেশে ফেক নিউজ ছড়ানোর কাজে ব্যবহূত ৫০০টি পেজ মুছে দিয়েছে। যাইহোক, হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরণকৃত বার্তাগুলো শুধুমাত্র প্রেরক ও প্রাপকই পড়তে পারে। ফেক নিউজ ছড়ানোর সীমানা কমে গেছে। গতবছরের শেষের দিকে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, দেশটির সরকার আইনের পরিবর্তন আনছে আর তাতে ফেসবুক মিথ্যা তথ্য যারা ছড়াচ্ছে তাদের তথ্য পুলিশকে দেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এটি বাস্তবায়ন হলে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে।
বিবিসি অবলম্বনে মাহবুব শরীফ
