অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

কমে যাচ্ছে কৃষিঋণ বিতরণ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬

কৃষিঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এ বিষয়ে স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্যাংকগুলোর কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যাও চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আরও বেশি তত্পর হওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর আগামী ছয়মাসে কৃষিঋণ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কান্তি বৈরাগি। দেশি-বিদেশি ৩৮টি ব্যাংকের প্রতিনিধি ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গতবছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে। এ সময়ে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ কমেছে। অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ১০ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫২৫ কোটি টাকা কম। এসময় সরকারি মালিকানার আট ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৫ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরে কৃষি বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে অর্জন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কৃষি ঋণ আদায় হয়েছে ১০ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাষ্ট্রীয় মালিকানার আট ব্যাংককে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকসূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে শুধু কৃষি ঋণ নয়, অন্যান্য ঋণ বিতরণও কমেছে। চলতি মাস থেকে আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, বিকেবি একক ব্যাংক হিসেবে গত ছয়মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। বছর শেষে মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। সার্বিক ব্যাংকিং খাতে কৃষি ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত বছরের হিসাব করে। বছর শেষে মোট বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলো কিনা সেটা দেখে। তাই অর্থবছরের প্রথম অর্ধেকে ঋণ বিতরণ কিছুটা কম হলেও পরের অর্ধেকে তা পূরণ হয়ে যাবে। কৃষি ঋণ বিতরণে অন্যান্য ব্যাংকও ভালো ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা। পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচিতে ঋণ বিতরণও কৃষিঋণের আওতাভুক্ত। তথ্য অনুযায়ী অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি অনুপাতিক হারে কৃষি ঋণ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। যে সব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা নেই সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককেও এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুদ হার নির্ধারিত আছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অ্যাথোরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ নির্ধারণে যে সুদ হার সেই হার। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে এ কার্যক্রম শুরু করে।