ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৫০ কোটি ডলার (৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে গতকাল সোমাবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহান্সমেন্ট পোগ্রাম (উইকেয়ার) ফেস-১, রুরাল কানেকটিভিটি, মার্কেট অ্যান্ড লজিস্টিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডির সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়ং টিমবন চুক্তিতে সই করেন।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-এর স্কেল-আপ ফ্যসিলিটি হতে এ অর্থায়ন করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার (২ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এবং ১৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার (১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি গত ২৩ জুন বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এবং ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গ্রামীণ যোগাযোগ তথা সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ২০২০-২০৩০ মেয়াদে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হতে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত ২৬০ কিলোমিটার মহাসড়ক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক কৃষিপণ্য উত্পাদন ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ নির্ধারিত গ্রোথ সেন্টার ও বাজারগুলোর সংযোগ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে যশোর-ঝিনাইদহ ৪৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত হবে। সেই সঙ্গে ৬০০ কিলোমিটার স্থানীয় সড়কের উন্নয়ন হবে। মহাসড়কে ইন্টারনেট সেবার ফাইবার-অপটিক স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এক প্রেসবার্তায় উল্লেখ করেন, ইকোনমিক করিডোরটি স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলটি বাণিজ্যিক হারে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
