নওগাঁয় আইনজীবীকে মারধর দোষী পুলিশদের বরখাস্তের দাবিতে আলটিমেটাম

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০০

নওগাঁয় আদালত চত্বরে গতকাল সোমবার আবু সাঈদ মুরাদ নামে এক আইনজীবীকে পুলিশ সদস্যরা মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আইনজীবীদের মৌন মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনজীবীকে মারধরের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এক দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন।

অন্যদিকে নওগাঁ পুলিশের অভিযোগ, আইনজীবীরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেছেন এবং তাদের মারপিটে পুলিশ সদস্যদের কয়েক জন আহত হয়েছেন।

সোমবার সকালে আদালত চত্বরে ঐ মারধরের ঘটনার পর আহত আবু সাঈদ মুরাদকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযোগে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবী আবু সাঈদ মুরাদ পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করার সময় প্রধান গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা প্রদান করেন। নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে রিকশা নিয়ে আদালতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অশালীনভাবে গালিগালাজ করা হয়।

আহত আইনজীবী মুরাদ জানান, গালিগালাজের প্রতিবাদ করে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পরে বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রাজিব, পুলিশ সদস্য মুক্তার হোসেনসহ ১০-১৫ জন পুলিশ তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারপিট শুরু করেন। তাকে এলোপাতাড়ি মারপিটের এই ঘটনা দেখে সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরাসহ সাধারণ মানুষ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে পুলিশ তাদেরও তাড়া করে। এ সময় কোর্ট চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবীসহ কোর্টে আসা সেবাগ্রহীতারা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।

মুরাদকে মারধরের ঘটনার পর নওগাঁর আইনজীবীরা বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে তাত্ক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোদাদাদ খান পিটুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কোর্টের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে কালো ব্যাজ ধারণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মৌন মিছিল করা হয়। নওগাঁ বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোদাদাদ খান পিটু বলেন, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার মধ্যে দোষী পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরে আরো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি পুলিশ সদস্য উজ্জ্বল জানান, সকালে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সে হিসেবে  পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আদালতের প্রধান গেটে অবস্থান নেয় পুলিশ। এ সময় আইনজীবী মুরাদকে রিকশা থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করা হলে পুলিশ সদস্যদের প্রতি অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেন তিনি। এরপর পুলিশ সদস্যদের হাতে থাকা লাঠি দিয়েই তাকে (পুলিশ সদস্য উজ্জ্বলকে) মারপিট করা হয়। এতে তিনিসহ কয়েক জন আহত হয়েছেন। হাতে আঘাত পাওয়ায় তার হাতে প্লাস্টার করে দিয়েছেন চিকিত্সক।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, পুলিশ সদস্যদের কেউ আঘাত করেনি। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পুলিশ সদস্যের হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, পুলিশ সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আইনজীবীর সঙ্গে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে দুই পক্ষের আহত হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।