জনবল সংকটে নাজুক সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন। স্টেশন কাঠামো অনুসারে পরিবহন শাখায় মোট জনবল থাকার কথা ৫৯ জন। আছে মাত্র ২৬ জন। শূন্য রয়েছে ৩৩টি পদ। বাণিজ্য শাখায় মোট ৫২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১৭ জন আর শূন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। ইয়ার্ড বিভাগের পরিবহন শাখায় ৩৬ জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬ জন আর শূন্য রয়েছে ৩০টি পদ। একটি স্টেশনের হার্ট হচ্ছেন স্টেশন মাস্টার। কিন্তু বর্তমানে এই স্টেশনের হার্ট নেই বললেই চলে। কোনোমতে জোড়াতালি দুর্বল হার্ট দিয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। ১৭ জন স্টেশন মাস্টার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ৭ জন। স্টেশনে বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করার জন্য ওয়েটিং রুম রয়েছে ৩টি। প্রতিটি ওয়েটিং রুমে ২ জন করে আয়া থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১ জন। তাই স্টেশনের ওয়েটিং রুমগুলো অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখা হয়। মাঝে মধ্যে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। তখন ওয়েটিং রুমে আয়া না থাকার কারণে রুমগুলো বন্ধ রাখা হয় আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের চরম নিরাপত্তাহীনতায় স্টেশনের আনাচে-কানাচে অপেক্ষা করতে হয়। স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে টিকেট শাখা। যে শাখা থেকে সরকার প্রতিদিন আয় করছে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব। সেই টিকেট শাখায় মোট ৮টি পদে লোকবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন ৫ জন। অনেক সময় স্টেশন কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই ভাড়া লোক দিয়ে বিক্রি করেন ট্রেনের টিকেট।
বর্ষা মৌসুমে স্টেশনের প্লাটফরমের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার জো নেই। দীর্ঘদিনের মরিচা ধরা টিনে সৃষ্টি হয়েছে হাজারো ফুটো। প্লাটফরমগুলোতে নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নেই আসন সংখ্যার। সম্প্রতি ঢাকাগামী দুটি ট্রেন পঞ্চগড় জেলা থেকে নতুন করে চলাচল করায় এই স্টেশনে আসনের যেটুকু বরাদ্দ দেওয়া ছিল সেই বরাদ্দ থেকেই কেটে নেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধেক আসন। এতে করে সান্তাহার স্টেশন থেকে ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীসহ স্টেশন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিনই চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। পরিশেষে, স্টেশনের উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আবদুর রউফ রিপন
নওগাঁ
