স্পোর্টস ডেস্ক
বিরাট কোহলির কীর্তির মুকুটে আরো তিনটি নতুন পালক যোগ হল। গতকাল আইসিসির বর্ষসেরা পুরস্কারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের সবগুলোই বাগিয়ে নিলেন তিনি। বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে তিনি পেয়েছেন স্যার গ্যারি সোবার্স ট্রফি। একই সাথে ছেলেদের বর্ষসেরা ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটারও তিনি।
২০০৪ সাল থেকে আয়োজিত এই পুরস্কার মঞ্চে এর আগে কেউই এক সাথে এই তিনটি ট্রফি পাননি। এর আগে বিরাট গতবারও বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছিলেন। টানা দু’বার সম্মানজনক এই পুরস্কার জয়ের দিক থেকেও বিরাটই প্রথম। গেলবার বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।
বিরাট কোহলির আগে আরো তিন ভারতীয় বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছিলেন। ২০০৪ সালে পুরস্কারের প্রথম বছরেই সেরার খেতাব পেয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। ২০১০ সালে পান শচিন টেন্ডুলকার। আর সর্বশেষ ২০১৭ সালে পেয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্চিন।
এখানেই শেষ নয়, একই দিনে বর্ষসেরা টেস্ট ও ওয়ানডে দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেখানেও জয়জয়কারই ছিল ভারতীয় অধিনায়কের। দু’টি দলেই অধিনায়ক হিসেবে ঠাই হয়েছে তার। আইসিসির নির্ধারিত ৩৬ সদস্যের একটি বিশেষ প্যানেলের ভোটে পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়েছে।
তিন ফরম্যাটেই ২০১৮ সালে চূড়ান্ত সফল ছিলেন বিরাট। ১৩২২ রান তিনি করেছেন ১৩টি টেস্টে, ১২০২ রান করেছেন ১৪ ওয়ানডেতে, আর ১০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এসেছে ২১১ রান। টেস্ট ও ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থেকেই তিনি বছর শেষ করেছেন। পুরস্কারের তালিকায় এতবার নিজের নাম দেখে বিরাট কোহলি নিজেও উচ্ছসিত অনুভূতিই প্রকাশ করলেন।
তিনি আইসিসিকে বলেন, ‘এটা দারুণ একটা অনুভূতি। গোটা বছরজুড়ে যেমন পরিশ্রম করেছি তারই পুরস্কার এই ট্রফিগুলো। আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। আশা করি, এই অর্জন আমাকে সামনে আরো ভাল পারফরম করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেরা মানের অনেক ক্রিকেটারই খেলেন। সেখান থেকে বেছে স্বয়ং আইসিসি যখন স্বীকৃতি দেয় তখন সেটা নি:সন্দেহে বিরাট ব্যাপার, অবশ্যই একজন ক্রিকেটারের কাছে এটা গর্বের বিষয়।’
পুরস্কার পেয়ে কোহলি যেমন ‘বিরাট’ গর্বিত, তেমনি এগুলোকে তিনি অনুপ্রেরণা হিসেবেও দেখছেন। বললেন, ‘সবার থেকে আলাদা করে যখন পুরস্কার পেয়েছি, অবশ্যই এটা আমার জন্য গর্বের একটি বিষয়। এটা আমাকে নিজের খেলার মান ধরে রাখতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। আরো ধারাবাহিক ভাবে যাতে পারফরম করা যায় সেই তাড়নাটা আরো বেড়ে যাবে এখন। এটা একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’
বিরাট কোহলি এর আগে ২০১২ সালে বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার জয় করেন। এবার বর্ষসেরা ক্রিকেটার ও বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের পুরস্কার জয়ের দিক থেকে বিরাটের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলেন ক্যাগিসো রাবাদা। কিন্তু, তিনি অল্পের জন্য ছিটকে গেছেন। আর বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার জয়ের জন্য বিরাটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে আফগানিস্তানের তরুণ লেগ স্পিনার রশিদ খানের সাথে।
বর্ষসেরা নবাগত ক্রিকেটারের পুরস্কার জয় করেছেন ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ত। সহযোগী দেশগুলোর সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার গিয়েছে স্কটল্যান্ডের ক্যালাম স্কট ম্যাকলয়েডের হাতে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ জিতেছেন বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স পুরস্কার। এখানে গেল জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে তার ১৭২ রানের ইনিংসটি বিবেচনা করেছে আইসিসি। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন জিতেছেন আইসিসির স্পিরিট অব ক্রিকেট পুরস্কার। আর বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জিতেছেন শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা।
পুরস্কারের তালিকায় ভারতের আরেকটি নাম আছে। ২০১৮ সালে ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিশ্বকাপ জয়ের দৃশ্যটা বর্ষসেরা ‘ফ্যান মোমেন্ট’ এর পুরস্কার জয় করেছে।
পু র স্কা র তা লি কা
গ্যারি সোবার্স ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রিকেটার) বিরাট কোহলি (ভারত)
বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার বিরাট কোহলি (ভারত)
বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার বিরাট কোহলি (ভারত)
বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার ঋষভ পান্ত (ভারত)
সহযোগী দেশের বর্ষসেরা ক্রিকেটার ক্যালাম ম্যাকলয়েড (স্কটল্যান্ড)
বর্ষসেরা আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা)
বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা (ভারত)
বর্ষসেরা নারী ওয়ানডে ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা (ভারত)
বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার এলিসা হিলি (অস্ট্রেলিয়া)
বর্ষসেরা নারী উদীয়মান ক্রিকেটার সোফি এক্সেলেস্টন
স্পিরিট অব ক্রিকেট পুরস্কার কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)
বর্ষসেরা ‘ফ্যান মোমেন্ট’ ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিশ্বকাপ জয়
