দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর পোভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি) এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, দেশের সকল নাগরিকের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক সুবিধা, শান্তি এবং গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণ করবে এবং একটি বৈষম্যহীন অধিকতর ভালো বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি করবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘বৈষম্যহীন দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর পোভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি)-বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্যাপি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই বৈষম্যের শিকার। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা আঁতাত করে এমন ধরনের অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণা ও ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেখানে বাজার ও অর্থের একচ্ছত্র আধিপত্য। মূলত, এই বিষয়গুলোর ফলেই বিগত ৩০ বছর ধরে বৈষম্য চরমভাবে বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম চলতি বছর ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের ডাভস শহরে সম্মেলনে মিলিত হচ্ছে। এ সময়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, অসমতা ও বঞ্চনার বিষয়গুলো এবং এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার জনগোষ্ঠীর দাবিগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী বিশ্বজুড়ে ফাইট ইন ইকুয়ালিটি ক্যাম্পেইন চলছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বিশ্বব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ১৯৯০-২০১৩ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী দরিদ্র লোকের সংখ্যা ২৪৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন হ্রাস পেলেও পালমা রেশিও (বৈষম্যের সূচক) দ্বারা দক্ষিণ এশিয়ার ১০ শতাংশ ধনী ব্যক্তির সামগ্রিক জাতীয় আয়কে (জিএনআই) ৪০ শতাংশ দরিদ্র ব্যক্তির সামগ্রিক জাতীয় আয় দিয়ে ভাগ করে দেখা যায়, উপরের ১০ শতাংশের আয়ের তুলনায় নিচের ৪০ শতাংশের আয় হ্রাস পাচ্ছে।
শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম অর্থনৈতিক আলোচনার নামে ধনী, অভিজাত এবং বৃহত্ বহুজাতিক করপোরেশনগুলো জলবায়ুকে ধ্বংস করছে এবং নারী, শ্রমিক ও আদিবাসী জনগণের অধিকারগুলো ছিন্ন করতে মুনাফা এবং শক্তি প্রয়োগ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিমউদ্দিন খান বলেন, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার সামাজিক চুক্তিকে ধ্বংস করে এবং বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সহযোগিতায় বাধা সৃষ্টি করে জনগণকে দরিদ্র ও নীরব রাখার উদ্দেশ্যে ক্ষমতাবানকে শক্তিশালী করার সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমরা একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেলের দাবি করছি। দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের সক্রিয়জন, সামাজিক আন্দোলন, নারীবাদী, আদিবাসীসহ সকলের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যা মানুষের অর্থনৈতিক সুবিধা, শান্তি এবং গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণ করবে এবং একটি অধিকতর ভালো বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি করবে।
বিএমই এর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, আমরা একটি মহত্ সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণের কথা বলছি যেখানে সকল মানুষের অধিকার সম্মানিত এবং পরিপূর্ণ, সকল সম্ভাবনা, সুযোগ এবং খ্যাতি সবাই ভাগ করে নেয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আফরোজা বানু। শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন, শিশু সংগঠক ও কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ইনসিডিন বাংলাদেশের পরিচালক মুশতাক আলী। সাউথ এশিয়া অ্যালান্স ফর পোভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি) সদস্য শাহনাজ সুমী প্রমুখ।
