শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী বিভিন্ন রোগকে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থাকে এসডিজির অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পানিতে ডুবে মৃত্যুকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়নি। পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার প্রতিরোধে কর্মসূচি গ্রহণ করা না হলে, সার্বিকভাবে শিশুমৃত্যুর উচ্চহার কমবে না। ফলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে দেশে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন। যাতে সারা দেশে একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান’—সমষ্টি আয়োজিত পরামর্শক সভায় এসব কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা গ্লোবাল হেল্থ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এই পরামর্শক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সমষ্টি পরিচালিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ মাসে সারা দেশে ৪৬৭টি ঘটনায় ৮৩৩ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। এদের মধ্যে ৬৮৬ জনই শিশু। যা মোট মৃত্যুর ৮২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে বাড়ির আশপাশের পুকুর বা জলাশয়ে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।
সভায় বলা হয়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর তথ্য এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো এখনো অনেকটাই অজানা। এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে কালক্ষেপণ না করে, এখন পর্যন্ত যে সমস্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে কাজে লাগিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের কর্মকৌশল তৈরি করতে হবে। তাছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যুর সবগুলো ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও এখনো গড়ে ওঠেনি। আবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদনগুলো শুধু ঘটনাকেন্দ্রিক। এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অভাব রয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব দিলে বিষয়টি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে এবং এ নিয়ে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে।
সভায় বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, দিনের প্রথম ভাগে শিশুদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হলে দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গ্রামভিত্তিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র সফলভাবে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে কার্যকর। প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা। সভার বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন সমষ্টির পরিচালক ও সাংবাদিক মীর মাসরুর জামান, সমষ্টির কর্মসূচি পরিচালক মীর সাহিদুল আলম, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকিসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ।
