ঢাকার জলাবদ্ধতার নেপথ্যে খাল দখল

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৯

চলতি শুষ্ক মৌসুম গড়িয়ে আসবে বর্ষা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমবে হাটু সমান পানি। অনেক সময় হাটু ছাড়িয়ে কোমড় অবধি পানি উঠে আসবে। রাজধানী ঢাকায় বর্ষা মৌসুমে গত কয়েক বছরের নিত্যদিনের চিত্র এটি। তবে এবারের বর্ষার মৌসুমে যাতে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য তত্পর হয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমের আগেই ঢাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট এই দায়িত্ব পালন করছে।

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার নেপথ্যে এর খালগুলোর অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়াকে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, খাল, জলাধার ও নিম্নাঞ্চল দখল ও ভরাটের কারণে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন নালাগুলোয় দখলদারিত্ব চলছে। ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য চারপাশের নদী ও খালগুলোকে দখলমুক্ত করে নব্যতা ও পানি ধারণের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বেশিরভাগ খালের অস্থিত্ব হারিয়ে গেছে। খালের উপর অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে দেখে বোঝার উপায় নাই যে এখানে একসময় খাল ছিল। আবার যেগুলোর  অস্তিত্ব আছে, সেগুলোর নদীর সাথে সংযোগ নেই। পরিচ্ছন্নতার অভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো। একটু ঝুম বৃষ্টি হলেই নগর জীবনে নামে সীমাহীন দুর্ভোগ।

জানা যায়, ঢাকা শহরে একসময় ৬৫টি খাল ছিল। সময়ের আবর্তে সরকার, প্রভাবশালী মহল এবং সাধারণ মানুষের অযাচিত অসত্ ব্যবহারে বেশ কিছু খাল অস্তিত্ব হারিয়েছে। তবে অবিভক্ত সিটি কর্পোরেশনের ২০০৮ সালের এক জরিপে দেখা যায়, রাজধানীতে একসময় ৪৪টি খাল ছিল। যার  মধ্যে ৩৫টি খাল শুকিয়ে গেছে। অনেক খাল ভরাট করে সড়ক, ড্রেনেজ লাইন করে ফেলা হয়েছে। তবে ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ জরিপের তথ্যমতে, খালের সংখ্যা ৪৩। বর্তমানে ২৬টি খাল আছে শুধু তালিকায়, বাস্তবে নেই। ১৩টি খালের প্রস্থ ১০ ফুটের বেশি নয়।

দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া খাল উদ্ধারে বাংলাদেশ সেবানাহিনীর উপর ভরসা করছেন নগরবাসী। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর দ্বারাই ঢাকার খালগুলোকে দখলমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ৯৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে সেনাবাহিনী ৭৪ কিলোমিটার খাল অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেছে। ডিএসসিসি আওতাধীন এলাকার কমবেশি ৯৩ কিলোমিটার খাল রয়েছে। এর ৩৪টি খাল রয়েছে যেটা সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন কাজ করছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে।

সংস্থাটির মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষণা নিয়েছেন, খাল দখলদাররা যে মতাদর্শের লোকই হোক বা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে এক বিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না।