অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণির সাজা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্তের আদেশ বহাল রাখা হয়েছে। বিচারপতি মো. ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন।
বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ওসমান গণিকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। ওই সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। হাইকোর্ট আপিল খারিজ করে দিয়ে তার সাজা বহাল রাখে। পরবর্তীকালে সাজা বহালের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। গতকাল দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং ওসমানের পক্ষে এএম আমিনউদ্দিন শুনানি করেন।
দুদক কৌসুলি বলেন, ইতিমধ্যে ১২ বছরের সাজা ভোগ করে জামিনে আছেন ওসমান গণি। পাশাপাশি তার স্থাবর-অস্থাবর যে প্রচুর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিলো সেই আদেশও বহাল রেখেছে আদালত। ফলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এখন সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে।
২০০৭ সালের ২৯ মে ওসমান গণির উত্তরার বাসায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। দুর্নীতি বিরোধী ওই অভিযানে তার বাসার বিছানার তোশক, বালিশ, চালের ড্রাম ও স্টোররুম থেকে নগদ প্রায় ১ কোটি টাকা, ১৩০০ ডলার, ৩ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিট ও প্রচুর স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধারের ঘটনাটি ওই সময় সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর ওসমান দম্পত্তির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় গণিকে ১২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয় বিশেষ আদালত। দুর্নীতিতে সহযোগিতার অপরাধে তার স্ত্রী মহসিন আরা গণিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিশেষ আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখে। ওই সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। যা গতকাল খারিজ হয়ে যায়।
