জেলা সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় গুলিতে এক শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে খলিফারহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটে ঘটনাও ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হচ্ছে- শান্ত (১০), সোলাইমান (২৮), সুমন (২৩), মো. জসিম (৪৫), অহিদ উল্যা (৩০), মাসুদ (৩৫), মঞ্জু (২২), জিয়া (২০), মনির আহম্মদ (৬০) ও সবুজ (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান শিপন ও ইউপি সদস্য জহির উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন পূর্বে প্রতিপক্ষের হাতে জহির গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিপনের অনুসারী ৯ আসামি গতকাল আদালতে জামিন নিতে হাজির হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিপন অভিযোগ করেন, তারা আদালত থেকে ফেরার পথে খলিফারহাট বাজারের পাশে আসলে জহিরের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় বাজারের চা দোকানদার সোলাইমান, অটোরিকশা চালক সুমন, মোটর সাইকেল মেকানিক জসিম উদ্দিন, অহিদ উল্যা, মাসুদ, মঞ্জু, শান্ত, জিয়া, মনির আহম্মদ ও সবুজ গুলিবিদ্ধ হন। বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চলে। অন্যদিকে জহির উদ্দিন পাল্টা অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শিপন তার লোকজনকে দিয়ে তার ওপর বার বার হামলা চালিয়েছে। এবারও শিপনের উপস্থিতিতে তার লোকজন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, সন্ধ্যায় ছররা গুলির আঘাতে আহত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো: আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
