হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করতে পারছেন না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ভারতের ফারাক্কা ব্রিজ মেরামত করার কারণে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের দুই অংশের ব্যবসায়ীরা। এতে করে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বন্দরের শ্রমিক নেতা নুরল সর্দার ও মোর্শেদুর রহমান জানান, বন্দরের পানামা পোর্টে আমদানি ২শ-৩শ পণ্যবাহী ট্রাকে ঠাসা থাকলেও এখন ৫০টি ট্রাকও ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশ করছে না। ফলে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা চললে তাদের অনাহারে থাকতে হবে। মূলত ফারাক্কা ব্রিজের কারণেই এ সমস্যা বলে জানান তারা।

বন্দরের ব্যবসায়ী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজার রহমান বলেন, ফারাক্কা ব্রিজ মেরামতের কারণে হিলি বন্দর দিয়ে দেশে পাথর আমদানি চার ভাগের এক ভাগও হচ্ছে না। এতে করে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রসহ মেগা প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ফারাক্কা ব্রিজের মেরামত কাজ দ্রুত করার তাগিদ দেওয়া দরকার বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ভারতের হিলি থানা ট্রাক মালিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী কার্তিক সাহা বলেন, ফারাক্কা ব্রিজ মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদার জেলা শাসকের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সেখানে ব্রিজ মেরামতের কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিসহ কি কি সমস্যা বা অসুবিধা হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। তারাও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি এখনো তিন মাস লাগতে পারে ফারাক্কা ব্রিজের কাজ শেষ হতে।

এদিকে বন্দরের হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, ভারত থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি অনেকাংশে কমে গেছে। এই কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফারাক্কা ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হলে আমদানি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।