স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুরে হাটবাজারগুলোতে কপির দাম কমলেও ক্রেতা না থাকায় বিপাকে পড়েছে চাষিরা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাঁধাকপি ও ফুলকপি। এতকিছুর পরেও মিলছে না ক্রেতা। শনিবার জেলার কাউনিয়া তকিপল হাট ও টেপামধুপুর হাটে এবং পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাটে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। শুধু কান্দিরহাটেই নয়, জেলার আট উপজেলার মফস্বলসহ শতাধিক হাটবাজারগুলোতে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫ দিন আগেও বাজারে কপি ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন সেই কপির জোড়া পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবুও ক্রেতা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে চাষিরা। কাউনিয়ার টেপামধুপুর হাটের কপি বিক্রেতা কৃষক গনেশ চন্দ্র বলেন, এ বছর ২০ শতাংশ জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ দামে বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা বিক্রি হবে। আজকে যে অবস্থা তাতে সব কপি বিক্রি হবে না। অতিরিক্ত কপি বাড়িতে নিয়ে গেলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। গাভিও আর খেতে চাচ্ছে না। এখন জমি থেকে সব কপি তুলে গর্তে পচানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।
মিঠাপুকুর হাটের কপি বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, আজকে হাটে ২০০ পিস বাঁধা ও ফুলকপি এনেছি। এখন পর্যন্ত ৬০ পিস কপি বিক্রি করেছি। ক্রেতা নেই। বাকি কপি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কপি বিক্রি না হলে লোকসানের মুখ দেখতে হবে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. সরওয়ারুল হক বলেন, রংপুরের আট উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপযুক্ত সারের ব্যবহার, উন্নতমানের চারা এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে এবার কপির বাম্পার ফলন হয়েছে।
কালিহাতীতে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি
এদিকে কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, কালিহাতীর বিভিন্ন হাটবাজারে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি। কপি নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। স্থানীয় পর্যায়ে আবাদ বেশি হওয়ার কারণে এত কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিন কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরবাজার, সয়া হাট ও বাঘুটিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি বড় সাইজের দেশি (পুইশা) কপি পাঁচ থেকে সাত টাকা, মাঝারি মানের কপি চার থেকে পাঁচ টাকা এবং ছোট কপি এক হালি ১০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষিবিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার বলেন, এ বছর বন্যা-পরবর্তী সময়ে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সরকার কৃষকদের জন্য প্রণোদনা প্রদান করায় উত্পাদন অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। তাই বাজারে দাম কিছুটা কম বলে তিনি মনে করেন।
