মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে ১০টি ককটেল, ৪টি পেট্রোল বোমা, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ২টি গুলি উদ্ধার এবং মোঃ তমিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-৪। আটক তমিজ উদ্দিন উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রামের মৃত কালু মোল্লার ছেলে। পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিত্সক। নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-৪ এর উপ-অধিনায়ক আব্দুল হাকিম বলেন, রাত ৩টা থেকে শুরু করে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলে। তিনি জানান, আটক তমিজ উদ্দিন মোবাইল ফোনে আমাদেরকে জানান, তার বাড়ির পাশে বাছের ফকির ও তার ছেলে মনসুর ফকির, আনছার ফকির ও জালাল ফকিররা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর জন্য অস্ত্র ও পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি মজুদ করেছে এবং তাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে খড়ের পালা তল্লাশি করলেই এগুলো পাওয়া যাবে। খবর পাওয়ামাত্র রাত ৩টা থেকে অভিযান চালিয়ে এ বাড়িটি ঘিরে ফেলি এবং এগুলো উদ্ধার করি। কিন্তু সোর্স তমিজ উদ্দিন ফোন করেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেন। এতে সন্দেহ হলে ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে তার বাড়ি গিয়ে বিছানা থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে ভয়েস মেলানো হয় এবং তমিজকে আটক করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে সোর্স তমিজ যাদের নামে এ কথাগুলো বলছেন তারা তার প্রতিপক্ষ। পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই তমিজ এ কাজটি করেছেন। আর এর কারণ হচ্ছে তমিজের ছেলে রকিব হচ্ছে প্রতিপক্ষ আনছার ফকিরের ছেলে কলেজছাত্র রাসেল হত্যার আসামি। ১৩ মাস আগে রকিব গংরা রাসেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে চাঁদার দাবিতে তাকে হত্যা করে। পরে ধল্লা বিন্নডিঙ্গি ওয়েস্ট টাউনের একটি পানির ট্যাংক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাসেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে রাসেলের পিতা আনছের ফকির মামলা করেন রকিব, জাহাঙ্গির, হযরত, সামসু মেম্বার ও দুলালদের বিরুদ্ধে। আসামি রকিব বর্তমানে জামিনে আছে। বাকিরা জেল হাজতে রয়েছে। তবে তমিজ এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে তা জানা যায়নি। উল্লেখ্য, রাসেল হত্যা মামলাটিরও রহস্য উদঘাটন করেছিলেন র্যাব-৪ এর উপঅধিনায়ক আব্দুল হাকিম ও সিঙ্গাইর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন। তদন্ত শেষে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। রাসেলের চাচা মনসুর ফকির জানান, ‘আজ আদালতে মামলাটির শুনানি। আগের দুই শুনানিতেও হাজিরা দেয়নি আসামি রকিব। ওদের সাজা হবে এমনটা ভেবেই আমাদের ফাঁসানোর জন্য তমিজ এ নাটক সাজিয়েছে। ’
