ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। মহাসড়কের প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডেই রয়েছে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের অবস্থান। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এ চক্রের সদস্যরা স্টপে বাস থামলেই যাত্রীবেশে বাসে উঠে সাধারণ যাত্রীদের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। নারীরাও জড়িত রয়েছে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে নয়ারহাট এবং নবীনগর থেকে কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন বাইপাস সড়কে ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনা। গভীর রাতে যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে অথবা সড়কে চলাচলরত গাড়িতে পাথর, ইটের টুকরা ও ডিম নিক্ষেপ কিংবা সড়কের উপর গাছের গুঁড়ি ফেলে গতিরোধ করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব।
গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের ব্যাংকটাউন ব্রিজের কাছে যাত্রীবাহী বাসে এক দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সাথে থাকা মালামাল লুট করে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা। যাত্রীবেশী কয়েকজন ছিনতাইকারী তাদেরকে মারধর করে স্ক্রু ড্রাইভার এবং ধারালো ছুরির আঘাতে সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। এসময় ছিনতাইকারীরা তাদের নিকট থাকা নগদ ত্রিশ হাজার টাকা, ল্যাপটপ ও মোবাইলফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। গত সোমবার সকালে মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবাহী বাসে এক মহিলা যাত্রীর গলার চেইন ছিনতাইকালে সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইকারী চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
গত বুধবার রাতে আমিনবাজার এলাকার অদূরে দুই পশু ব্যবসায়ীকে মারধর করে ট্রাক থেকে ফেলে দিয়ে ৬৫টি খাসি নিয়ে পালিয়েছে ট্রাকের চালক, হেলপার ও তাদের সহযোগীরা। টাঙ্গাইল থেকে ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে তাদের বহনকারী ট্রাকটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর পার হলে হেলপারসহ ট্রাকে থাকা তিন দুর্বৃত্ত দুই ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং হাত পা বেঁধে ফেলে। এসময় দুষ্কৃতকারীরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে আমিনবাজার-বলিয়ারপুরের মধ্যবর্তী স্থানে ফেলে দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, শিমুলতলা, উলাইল, পাকিজা মোড়, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, বিশমাইল, পল্লী বিদ্যুত্, রাঙ্গাবন নার্সারিসহ প্রায় ২০টি স্পটে ছিনতাইকারীদের বিচরণ রয়েছে। এ চক্রটি ৩/৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করছে।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ চক্রটির বেশিরভাগ সদস্যকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
