দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের মধ্যসুলতানপুর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন বাজিতপুর গ্রাম থেকে সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রফিকুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই সন্তানের জনক রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, এলাকার সুদখোরদের কাছ থেকে চড়াসুদে টাকা নিয়ে সুদে-আসলে টাকা দিতে না পারার ঋণগ্রস্ত হয়ে রফিকুল ইসলাম নিজ ঘরেরে আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন।
তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
জানা যায়, এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র চড়াসুদে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদেরই কয়েকজনের কাছ থেকে রফিকুল ইসলাম চড়াসুদে কিছু টাকা ঋণ করেন। কিন্তু সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দাদন ব্যবসায়ীরা তাকে নানাভাবে ভয়ভীতিসহ বাড়িঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতে শুরু করেন। রফিকুল ইসলাম সুদের টাকা পরিশোধ করতে দুইটি এনজিওতেও সদস্য করেন তার স্ত্রীকে।
সোমবার এনজিও থেকে টাকা ঋণ নিয়ে সুদখোরদের টাকা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু রফিকুল ইসলামের স্ত্রী এনজিও থেকে ঋণে টাকা তুলতে রাজী না হওয়ায় দাদন ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি রেখে রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে একাই বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর সোমবার সকালে তার ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ী থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, লাস উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্তের পর বলা যাবে।
ইত্তেফাক/এসসিএস
