ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চর ও ডুবোচরে লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিতে

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২০

ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথের বিভিন্ন স্থানে চর ও ডুবোচর জেগে উঠায় লঞ্চ চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌ-পথে নিয়মিত ড্রেজিং করা হচ্ছে না। 

এই নৌ-পথে চলে এমন লঞ্চের মাস্টাররা জানান, মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া, মল্লিকপুর ও কালিগঞ্জ, বামনার চর থেকে লাল খয়রাবাদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার, চাঁদপুরের শেওড়াবয়া বা মাঝের চর চ্যানেলসহ এসব এলাকার পার্শ্ববর্তী স্থানে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। ভাটার সময় পানি কমে গেলে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে নৌ—পথটি, ফলে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথের মিয়ারচর এলাকায় নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করে নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথে চলাচলকারী নৌযানসহ অন্যান্য নৌযানগুলোকে মেহেন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ হয়ে মেঘনায় নদী পাড়ি দিতে হয়। তবে বরিশালের হিজলার মিয়ারচর থেকে নৌযানগুলো চলাচল করলে প্রায় ১০ কিলোমিটার নৌপথ কমে যায় ও সময় বেঁচে যায় প্রায় দেড় ঘন্টা। এনিয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হলে ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

গতকাল মঙ্গলবার মিয়ারচর অংশের ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন মংলা-পাকসি নৌপথ প্রকল্পের পারফরমেন্স বেজ ড্রেজিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় মিয়ারচর অংশের সাড়ে ৪ কিলোমিটার ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি জানান সেখানকার গভীরতা সাড়ে ৪ মিটার এবং প্রশস্ততা ৭৬ মিটার।

বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু জানান, বরিশাল-ঢাকা নৌপথের মিয়ারচরে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় বর্তমানে কালিগঞ্জ হয়ে ঘুরে যেতে দেড়ঘন্টা অতিরিক্ত সময় লাগছে নৌযানগুলোর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানি খরচ।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথের মিয়ারচর অংশের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলেও ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথের অপর চ্যানেলগুলোতে ড্রেজিং না হওয়ায় নৌ-পথে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে চলতি মাসেই মেহেন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ সংলগ্ন নদীতে যাত্রীবাহী দু’ লঞ্চের দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত ও ৫ জন গুরুতর আহত হয়, মেহেন্দিগঞ্জে দু’ লঞ্চের চাপায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়। এছাড়াও বাকেরগঞ্জের কারখানা নদীতে দু’টি লঞ্চ ডুবোচরে প্রায় ২৪ ঘন্টা আটকে পড়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ বিএনপি আগে চায় খালেদা জিয়ার মুক্তি

একাধিক লঞ্চের মাস্টাররা জানান, শুকনো মৌসুমে বেশ কয়েকটি স্থানে ডুবোচর থাকায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। পানি আরো কমতে থাকায় ঘন কুয়াশায় লঞ্চ পরিচালনায় অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে। মাস্টাররা অভিযোগ করেন, ডুবোচরের স্থানগুলোতে বয়া থাকলেও তাতে বাতি জ্বলে না, আবার বিকন বাতিও জ্বলে না। লঞ্চ চালকরা জানান, বয়া-বিকন বাতি না থাকায় এসব ডুবোচরগুলোতে ধারনা করেই লঞ্চ চালাতে হয়। এছাড়া অধিকাংশ চ্যানেল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানেও কোনো বয়া না থাকায় নৌযানগুলো আটকা পড়ে।

ইত্তেফাক/নূহু