জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন বগুড়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে তিনি আগাম জামিন চান। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। আদালত বলে, মন্ত্রী, এমপি বা যেই কেউ হোন না কেন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ১১৩ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৮ টাকার সম্পদের ‘তথ্য গোপনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি।
শুনানিতে এমপির আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জামিন আবেদনকারী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার বয়স ৭৩ বছর। সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতেই দুদক তার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে।
এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলে, মামলা হলেই একজন এমপির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে এ ধরনের বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য। আপনারা হাইকোর্টে না এসে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে সেটা জনগণের কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারত। সামাজিক মর্যাদা বাড়ত।
জামিনের বিরোধিতা করে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের রায় আছে কারা আগাম জামিন পেতে পারেন। সেই নীতিমালা অনুযায়ী তাকে আগাম জামিন দেওয়া ঠিক হবে না। নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশনা দিতে পারে আদালত। কারণ উনি যে সম্পদ অর্জন করেছেন সেসব সম্পদের উত্স অজ্ঞাত। যার কারণে দুদক এ মামলা করেছে। এমপির আরেক আইনজীবী মুন্সী মনিরুজ্জামান বলেন, দুদকে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছে, তার বাইরে উনার অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। কিন্তু দাখিল করা সেই সম্পদ বিবরণী পাশ কাটিয়ে দুদক অসত্ উদ্দেশ্যে এই মামলা করেছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তিন সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করে। এই সময়ের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
