কারাবন্দি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে অচিরেই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা কারাবন্দি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, আমরা আপনাদের জন্য কোনোকিছুরই ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, দলকে সুসংগঠিত করে ইনশাআল্লাহ অচিরেই মাঠে নামবো। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন প্রমুখ।
আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল-জাজিরা’ বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি এই কথা শুনার জন্য নয় যে, বাংলাদেশ একটি মাফিয়া দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, বাংলাদেশ একটা মাফিয়া রাষ্ট্র। তাই দয়া করে প্রমাণ করুন আল জাজিরায় যা কিছু আসছে সব মিথ্যা।
গুলশানে খালেদা জিয়া গৃহবন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদা জিয়া ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না কেনো, তা বুঝতে কষ্ট হয়। করোনার কারণে খালেদা জিয়াকে বাড়িতে রাখা হয়েছে। সরকার এখনো তার মুক্তি দেয়নি। বিএনপি এতো বড় একটি দল, হাজারো নেতা-কর্মী, তাহলে কী কারণে খালেদা জিয়া বন্দি থাকবেন? বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, ভারত থেকে যে টিকা এসেছে, আপনারা প্রমাণ করুন, এ টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই এ টিকা নিচ্ছেন না। এদিকে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে হঠাত্ই অসুস্থ হয়ে পড়েন রিজভী। পরে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তার চিকিত্সা দেওয়া হয়।
