গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান:মহাবিশ্বের সৃষ্টি-বিগব্যাং

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:২৯

মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ,সিলেট

 

 

 

 ইলেকট্রনগুলো পরমাণুতে বাধা পড়ায় মহাবিশ্ব চূড়ান্তভাবে আলোকস্বচ্ছতা লাভ করে, পদার্থ গঠিত হয়। বিগব্যাং-এর ৩০ লক্ষ বছর থেকে ১৫ কোটি বছর সময়টা হলো অন্ধকার যুগ (Dark Age)। প্রথম পরমাণু গঠনের পর থেকে প্রথম নক্ষত্র গঠন হতে এই সময় নেয়। তখন ফোটন থাকলেও আলো দেয়ার মতো কোনও তারকা সৃষ্টি হয়নি। ফলে সে সময়টা অন্ধকার থাকে এবং ডার্কম্যাটার বা অদৃশ্যবস্তু মহাবিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করে। ১৫ কোটি বছর থেকে ১০০ কোটি বছরের মধ্যে কোয়াসার তৈরি হয়। কোয়াসার হলো আধা নক্ষত্র বা রেডিও উত্স। এরা তীব্র বিকিরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বকে পুনরায় আয়নিত করে বলে একে পুনঃ আয়নায়নের কাল হিসেবে ধরা হয়। তখন মহাবিশ্ব আয়নিত প্লাজমা দ্বারা পূর্ণ হয়।

৩০০ কোটি বছরের মধ্যে ছায়াপথ তৈরি হয়, কৃষ্ণগহ্বর বা ব­্যাকহোলও তৈরি হয়। ৬০০ কোটি বছরের মধ্যে বৃহত্ নক্ষত্রসমূহ বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে ভারি মৌলসমূহ, যেমন নিকেল, গোল্ড, সিলভার ইত্যাদি সৃষ্টি হয় এবং মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষ্ফোরণকে বলা হয় সুপারনোভা।

বিগব্যাং এর ৮০০ কোটি বছর পর আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে ছায়াপথের বাহুতে আমাদের সূর্য ও সৌরজগত্ সৃষ্টি হয় এবং ৯২০ কোটি বছর পর সৃষ্টি হয় আমাদের পৃথিবী।

কমলা বললেন-তা কত বছর হলো আমাদের পৃথিবীর?

নীলকান্তবাবু বললেন-প্রায় ৪৫০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি বছর।

সীমা বলল-বাবা, তাহলে মহাবিশ্বে নক্ষত্র কতগুলো?

তা মনে করো আমাদের মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথে ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে। এরকম ১০ হাজার কোটি ছায়াপথও রয়েছে।

এতগুলো? অবাক হলো কণিকা।

নীলকান্তবাবু বললেন-মহাবিশ্ব হচ্ছে দিকনিরপেক্ষ এবং সমসত্ত্ব। যেদিক থেকেই দেখা হোক, মহাবিশ্বকে দেখতে একই রকম দেখায়।

কমলা বললেন-ঠিক আছে, অনেকক্ষণ গল্প হলো, চলো এবার উঠা যাক।

না, না, দাঁড়াও, রেখার একটা গান শুনে নিই।

রেখা ইতস্তুত করে গান ধরল-

বিশ্ব যখন, নিদ্রামগ্ন

গগন অন্ধকার

কে দেয় আমার বীণার তারে

এমন ঝংকার।