রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ আর সরকার ব্যবস্থায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে চাওয়া তরুণদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে অনেকেই কাজ করেছেন, ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়েছেন ধীরে ধীরে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে। সরকার পদ্ধতিতে অংশ নিয়ে সফলভাবে পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সেই তরুণদের নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
নাদিয়া হুইটম
যুক্তরাজ্য
চলতি সময়ে ব্রিটিশ সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নাদিয়া হুইটম। মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী তার নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথম প্রতিনিধি— যিনি ওই অঞ্চলে থাকা সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ক্ষমতা হাতে নিয়েই নিজ বেতনের অর্ধেকের বেশি অংশ দরিদ্র ও দুর্গতদের কল্যাণে খরচ করার প্রতিশ্রুতি দেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামাইকায় ৫০ জনের নির্বাসন বন্ধে দেড় শতাধিক সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর নিয়েছিলেন এই তরুণী। ঠিক পরের মাসে অর্থাত্ মার্চে করোনাদুর্গতদের সাহায্য করতে নিজের পারিশ্রমিক দান করেন তিনি।
সায়িদা ওনিসি
তিউনিসিয়া
২০১৪ সালে তিউনিসিয়ার সংসদের কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সায়িদা ওনিসি। কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য প্রদেশের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর ২০১৬ সালে তাকে তিউনিসিয়ার মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিপ্লবী স্টার্টআপ অ্যাক্ট বাস্তবায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করার জন্য সর্বনিম্ন জাতীয় আইন পাস করতেও সহায়তা করেছিলেন তিনি।
ক্লোয়ি সোরব্রিক
নিউজিল্যান্ড
৪০ বছরের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য ক্লোয়ি সোরব্রিক। মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে মাদক প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গ্রিন পার্টির মুখপাত্র হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ২৪ বছর বয়সী এই তরুণীকে দেখে প্রভাবিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ তরুণ। ফলে দেশটির রাজনীতিতে অভূতপূর্বভাবেই বেড়েছিল তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ২০১৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব নিয়ে সংসদে কথা বলার সময় ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি।
বগলো কেনেওয়েন্দো
বোস্তানা
মাত্র ২৯ বছর বয়সে আফ্রিকান দেশ বোস্তানার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বগলো কেনেওয়েন্দো। তিনিই দেশটিতে সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রী হয়েছিলেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই তিনি বেশ কিছু বিল পাস করেন। এসব বিলের মধ্যে যৌন সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তালিকাকরণ, শিশু অধিকার সংরক্ষণ বিল এবং দেশের নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ বিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এডিসন ব্রুস
পানামা
পানামার সবচেয়ে কম বয়সী সংসদ সদস্যদের মধ্যে এডিসন ব্রুস অন্যতম। দেশটির প্রথম পুনর্ব্যবহার আইন পাস হয় তার হাত ধরেই। চলতি বছরের মধ্যে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ওপর দেশটির নির্ভরতা দ্রুত হ্রাস করার জন্য আরেকটি আইন পেশ করেন। রাষ্ট্রের নেতৃপর্যায়ে কাজ করার আগে থেকেই পরিবেশ নিয়ে কাজ করতেন ব্রুস। মাত্র ২৯ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ইকো অক্সিটো’ নামে একটি এনজিও। প্লাস্টিকের তৈরি স্ট্রে ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।
জর্ডন স্টিল-জন
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ান সংসদের কনিষ্ঠতম সিনেটর জর্ডন স্টিল-জন অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনের পক্ষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদের কনিষ্ঠতম এবং দ্বিতীয় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী সিনেটর তিনি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি অপরাধমূলক আচরণ ও সহিংসতা রোধে প্রতিষ্ঠিত রয়্যাল কমিশনের প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। নিজের মতামত ও বিশ্বাস প্রকাশে কোনোদিনই লজ্জা পাননি জর্ডন। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্যের কারণে তিনি দারুণভাবে আলোচিত।
