পি কে হালদারের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৯

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার দুদকের উপপরিচালক বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২০ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এতথ্য জানিয়েছেন।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন—সুকুমার মৃধা, তাপসী রানী শিকদার, অসীম কুমার মিস্ত্রি, স্বপন কুমার মিস্ত্রি ও অনিন্দিতা মৃধা। এই পাঁচ জনের মধ্যে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে ২১ জানুয়রি এবং অসীম কুমার মিস্ত্রিকে গত সোমবার গ্রেফতার করে দুদক।

এদিকে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের এক মামলায় তার সহযোগী অনিন্দিতা মৃধাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে কাশেমপুর কারাগার থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। গতকাল ছিল তিন দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন।

গত ২১ জানুয়ারি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের তদন্ত টিম। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ায় ঐ দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গ্রেফতার করে দুদকের তদন্ত টিম।

দুদক সূত্র জানায়, অনিন্দিতা মৃধার বাবা সুকুমার মৃধা পি কে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন। পি কে হালদার অনিন্দিতা মৃধাকে উইন্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক করেন। এ কোম্পানির নামে এফএএস ফিন্যান্স অ্যান্ড লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়ালি সার্ভিস থেকে ভুয়া নামে ১৬৮ কোটি টাকা ঋণ তুলে নেওয়া হয়েছে। যা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে পাচার করা হয়। এর বাইরে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের নামে যে অর্থ লোপাট ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে সেখানেও অনিন্দিতা মৃধার ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে দুদকের হাতে। দুদক কর্মকর্তারা বলছে, ২০১৯ সালে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার তদন্তে অনিন্দিতা মৃধার সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। তার স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। গত ৫ জানুয়ারি পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট।