বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে পাবনা জেলার জাবরকোলের দুই পরীক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি এ আবেদন করেন। এতে অন্য অভিযুক্তরা হলেন—শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ও কর্মচারী নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক ও মেহেন্দিগঞ্জ উলানিয়ার আশা এলাকার আবুল কালাম, পটুয়াখালীর বাউফল বিলবিলাস এলাকার আশ্রাফুজ্জামান ও ঝালকাঠির কাঠালিয়ার জোরখালী এলাকার মিজানুর রহমান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলমান। কোনো প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই।
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩২ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলার প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি ফার্মাসিস্ট পদে আবেদন করেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষার দিন কমিটির সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ পাইয়ে দিতে নকল সরবরাহ করেন। আইনজীবী আজাদ রহমান আরো বলেন, এছাড়াও হাসপাতালে কর্মরত বরিশাল জেলার বাসিন্দারা জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের স্বজনদের জন্য আবেদন করেন। আবুল কালাম সাবেক ও বর্তমান পরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় দুই বছর পূর্বে তার চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি গাজীপুর জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে ড্রাইভার পদে আবেদন করেন। একইভাবে হাসপাতালের অফিস সহকারী সৈয়দ নান্নার মেয়ে এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের কবিরের মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিতে একই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করেন। ঐ তালিকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারীর নাম রয়েছে। আবুল কালাম শর্তানুসারে নিয়োগ পেতে অযোগ্য হলেও পরিচালকসহ অন্যদের সহায়তায় তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পটুয়াখালীর আশ্রাফুজ্জামান ও ঝালকাঠির মিজানুর রহমান শর্তানুসারে অযোগ্য হলেও তারা ফার্মাসিস্ট পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ৬ ফেব্রুয়ারি পরিচালক ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪৪৪ জন প্রার্থীর পরীক্ষার ফলাফল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিচালকের চাকরির মেয়াদ আগামী মার্চ মাসে শেষ হবে। এতে তিনি তড়িঘড়ি করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত হন।
