খুলনায় অপহূত আইনজীবী অভয়নগরে উদ্ধার নারীসহ আটক ৩

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৪

আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলনের সঙ্গে রাবেয়া সুলতানা রিতুর পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে মিলনকে ডেকে নেয় রিতু। এরপর কৌশলে বান্ধবী সুরাইয়ার বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। তারপর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের লোকজন থানায় জিডি করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে যায়। পিবিআইয়ের তত্পরতায় মঙ্গলবার যশোরের অভয়নগর থেকে মিলনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।

তিনি আরো জানান, পারিবারিকভাবে মিলন ও রিতুর বিয়ে ঠিক হলেও তারা জানতো না রিতু উচ্চাভিলাষী জীবনযাপনের জন্য নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং মাদকাসক্ত। এর আগেও দুটি অপরাধে জড়িত ছিল। কিন্তু তাতে পার পেয়ে গেছে। স্কুলের বান্ধবী সুরাইয়ার সঙ্গে পরিকল্পনা করে তারা এই অপহরণ করে। আর সুরাইয়া ও তার স্বামী রাজও নানা অপরাধে জড়িত। তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণ করে টাকা আদায় করত। এ ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—খুলনার শাহীন শিকদার (১৮), আবদুস সালাম (২৪) ও সাতক্ষীরার সুরাইয়া (২০)।

ভিকটিম আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলন (৩৩) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের এম এ হাকিমের ছেলে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে। অপহূত আবু হেনা মোস্তফা কামাল ওরফে মিলন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, পারিবারিকভাবে আইনজীবী মিলনের সঙ্গে রিতুর বিয়ে ঠিক হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মিলন বাড়ি থেকে বের হয়ে খুলনা পাইওনিয়ার কলেজের সামনে বাগদত্তা রিতুর সঙ্গে দেখা করতে যান এবং তারা একত্রে ঘুরতে যান। সন্ধ্যায় মিলন তার বন্ধু হাফিজুরকে ফোন করে বিপদে আছে ও তার টাকা প্রয়োজন বললে হাফিজ তাকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মিলনের ব্যবহূত মোবাইল ফোন দিয়ে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং দুলাভাইয়ের মোবাইলে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তাকে মারপিট করে কান্নাকাটির আওয়াজ শোনায়। মুক্তিপণ না দিলে মিলনকে হত্যা করবে বলে জানায়।

৮ ফেব্রুয়ারি মিলনের নিখোঁজ-সংক্রান্ত বিষয়ে তার পিতা সাতক্ষীরার তালা থানায় জিডি করেন। পরবর্তী সময়ে ৯ ফেব্রুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন মিলনের দুলাভাই শরিফুল ইসলাম। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ঐদিন খুলনার দৌলতপুর মাছবাজার ঘাট এলাকা থেকে আসামি শাহীন শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে অভয়নগর থেকে আবদুস সালাম ও সুরাইয়াকে গ্রেফতার ও ভিকটিম মিলনকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন আরো বলেন, মিলন ও রিতু শনিবার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পার্কে ঘুরতে যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত সুরাইয়ার দেখা হয়। সুরাইয়া চা-পানের কথা বলে মিলন ও রিতুকে অভয়নগর থানার একতারপুর গ্রামের বাসায় নিয়ে যায়। একপর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমকে বাসায় রেখে তার বাগদত্তা রিতুকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে শাহীন শিকদার, আবদুস সালাম, সুরাইয়া ও হাবিব মিলন ওরফে রাজ পরিকল্পনা মোতাবেক মিলনকে বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট করে। একপর্যায়ে মিলনের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।