‘আমি নিজেই নিজেকে উত্সাহ দিই’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:৪৫

জনপ্রিয় অভিনেতা মাজনুন মিজান। বিজ্ঞাপন, নাটক, ও চলচ্চিত্রে সমানতালে বিচরণ করছেন দীর্ঘদিন। নিজের ক্যারিয়ারে বেশকিছু গল্প নির্ভর চলচ্চিত্রে কাজ করেও দর্শকদের কাছে হয়েছেন প্রশংসিত। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ৬টি চলচ্চিত্র। গুণী এই অভিনেতা ব্যক্তিজীবন, নাটক ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

দর্শকদের জন্য নতুন বছরে কোন কাজগুলো করছেন?

আমার ৬টি ছবি রিলিজের অপেক্ষায় রয়েছে। একটা ওয়েব সিরিজের কাজ চলছে এবং দুটি সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করলাম। এছাড়া নিয়মিত কাজগুলো তো চলছেই।

আপনার অভিনীত ‘গণ্ডি’ ছবিটি আবার রিলিজ হচ্ছে। দ্বিতীয়বার হলে আসার কারণ কী?

গত মার্চে প্রথম যখন  মুক্তি পায় তখন ভালো সাড়া পাওয়ার পরও করোনার কারণে ছবিটি দীর্ঘসময় দেখানো যায়নি। ফলে অনেকেই ছবিটি দেখতে না পেয়ে অনুরোধ করছেন আবারো দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এছাড়া সম্প্রতি কলকাতা বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও ছবিটি দেখানো হয়েছে। সেখানে ভালো সাড়া পেয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায়  আগামীকাল (আজ) থেকে দু-দিন পাবলিক লাইব্রেরিতে ৩টি শো আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। আর আমাদের প্রেক্ষাপটে নতুন একটি গল্প রয়েছে এই ছবিতে। মূলত আমাদের গণ্ডি ভাঙার একটি গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে ছবিটিতে। 

আপনি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে বেশকিছু কাজ করেছেন। ওনার প্রয়াণের পর মিডিয়াতে আপনার গুরুত্ব কমে গেছে বলে মনে করেন কী?

না, বিষয়টি সে রকম না। হ্যাঁ, হুমায়ূন আহমেদ স্যার চলে যাওয়ায় একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া নতুন নতুন মাধ্যম সৃষ্টি হওয়ায় সবাই এখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছেন। যে যার মতো মানহীন কাজ করছেন। সাময়িক ভাইরাল বনে যাচ্ছেন। আমি আসলে সেই ধরনের কাজ থেকে সবসময়ই নিজেকে দূরে রেখেছি, এখনো রাখছি। যে কাজটি করে আনন্দ নেই, নিজের কাছে খারাপ লাগে সেটা করতে চাই না। তাই কাজও কিছুটা কম করা হয়েছে।

আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক সফল কাজ করেছেন। কিন্তু সেই তুলনায় প্রাপ্তি কম মনে করেন কী?

আমি অভিনেতা হয়েছি একদম নিজে পরিকল্পনা করে। কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে বা করতে করতে অভিনেতা হয়েছি, বিষয়টি সেরকম না। আমি অভিনয় করতে পারি, আমার অভিনয় মানুষ দেখেন, বিনোদিত হন, দুঃখ পান বা কোনো বার্তা পান।—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

কিন্তু দেখা গেল আপনি পার্শ্বচরিত্রে কাজ করেছেন, অন্য একজন একই ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি পুরস্কার পেলেন, আপনি পেলেন না। এতে কোনো আক্ষেপ জাগে কি-না?

না, আমার এ বিষয়ে কোনো আক্ষেপ নেই, ছিল না, আর থাকবেও না। তবে হ্যাঁ, পুরস্কার পেলে যে কারোরই ভালো লাগে, উত্সাহিত হয়। এটাও সত্য যে, পুরস্কার পাইনি বলে আমি নিরুত্সাহিত এমন না। আমি নিজেই নিজেকে উত্সাহ দিই। কারণ আমি অভিনেতা হতে এসেছি, অভিনেতা হয়েছি। আমি মনে করি নিজের কাজটি ঠিকমতো করা, দর্শকরা ভালোবেসে গ্রহণ করছে কি-না সেই বিষয়টি চিন্তা করে সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

আমাদের দেশে ওয়েব সিরিজ ও ওটিটি প্লাটফর্ম নতুন এক সংযোজন। কিন্তু এরইমধ্যে এই মাধ্যম নিয়ে সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। এতে করে কী চরিত্র সংকটের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে? এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই—

আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ। এখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা মিলিয়ে মানুষের অভ্যেস এত নিচ যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সব মিলিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা। ঠিক এমন অবস্থা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিসহ সব জায়গায় রয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখন কে কী করছে বা করবে, কী করার যোগ্যতা আছে।—এর কোনো মাপকাঠি নেই। কোনো সংস্থা নেই। তাই যোগ্যতা থাক বা না থাক, কাজ পারুক বা না পারুক, যে যার মতো একটা কিছু করছে। সেটা হোক মানহীন বা অখাদ্য। আমাদের আসলে কোনো লক্ষ্য নেই। তাই মাঝি ছাড়া লক্ষ্যহীন নৌকার মতো চলছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি। যদিও এ থেকে মুক্তি জরুরি।  

নাট্যাঙ্গনে অভিনয় বা অন্যান্য কাজে যারা যুক্ত তারা অনেকেই না জেনে আসেন। এটা কী মানহীন কাজের অন্তরায় মনে করেন না?

না, আসলে না শিখে এলে যে অভিনয় বা কাজ করতে পারবে না, এমন না। অনেকেই শিখে না এসেও ভালো করেছে। তবে কাজ শিখে এলে শিষ্টাচার বা পেশাদারিত্ব বজায় থাকে।

আপনি অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায়ও নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু সেভাবে আপনাকে দর্শকরা পাচ্ছে না কেন?

প্রথমত, বাজেট একটি সমস্যা। দ্বিতীয়ত, আমি যে ধরনের গল্পে নির্মাণ করতে চাই সে ধরনের গল্পে প্রযোজকরা লগ্নি করতে চায় না। তাছাড়া আমাদের টিভি বা অন্যান্য মাধ্যম যেটাই বলুন, সেখানে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাজ হচ্ছে। যে প্রক্রিয়ার ভেতরে আমি যেতে পারছি না।