মা হ মু দু ল আ মি ন
গুরু-শিষ্য পরম্পরা প্রথা হাজার বছরের বাংলার প্রাচ্যকলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের যথার্থ জ্ঞান বিনিময়ের অনস্বীকার্য ধারা। সে ধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টুডিও’ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। স্টুডিওর তিনজন সদস্য মলয় বালা, জাহাঙ্গীর আলম ও অমিত নন্দী; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় এবং শওকাতুজ্জামানের শিল্পমানস দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁদের আদর্শকে চেতনায় ধারণ করে চিত্রকলা ও সামগ্রিক শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় নিজেদের মনন ও শিল্পবলয় তৈরি করার জন্য শিল্পচর্চার একটি সমৃদ্ধ স্পেস হলো ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টুডিও। স্টুডিওতে মলয় বালা, জাহাঙ্গীর আলম ও অমিত নন্দী গুরু-শিষ্য পরম্পরার আদর্শ মেনে চিত্রচর্চা করেন। চিত্রচর্চার সময় গুরু কখনো শিষ্য আবার শিষ্য কখনো গুরুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীটি ওরিয়েন্টাল পেইন্টিং স্টুডিওর গুরু-শিষ্য পরম্পরা ধারার প্রথম আয়োজন। প্রদর্শনীতে ধ্রুপদি ঘরানা থেকে শুরু করে সমসাময়িক প্রাচ্যচিত্রকলার নানা অনুষঙ্গ বিদ্যমান। পৌরাণিক উপাখ্যানের অনুষঙ্গ যেমন :শকুন্তলা সিরিজচিত্র, রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন প্রণয় ও মহাভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে বাংলার নিসর্গচিত্র, বাংলা সাহিত্যের জ্যোতির্ময় নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বিভিন্ন মনীষীর প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। তাছাড়াও সমসাময়িক সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক চিত্রের বাস্তবানুগ, বিমূর্ত, অর্ধ-বিমূর্ত, প্রতীকী ও আধুনিক উপস্থাপন রয়েছে এই প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শিল্পানুরাগী আব্দুলাহ আল মাহমুদ এবং শিল্পানুরাগী মিখাইল আই. ইসলাম। গত ১৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকছে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
