ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ-এর ঐতিহাসিক চরিত্রে

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৭

রে জা উ ল  ক রি ম  খো ক ন

 

বলিউডে কঙ্গনা রানাওয়াতের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমাটি ছিল ‘গ্যাংস্টার’। শুরুতেই সবার নজর কেড়েছিলেন। তার পর্দা-উপস্থিতিতে অন্যরকম চমক ছিল। সেই থেকে হিন্দি সিনেমার দর্শক কঙ্গনাকে অন্য চার-পাঁচজন বলিউডি নায়িকার চেয়ে আলাদাভাবে প্রত্যাশা করেন রুপালি পর্দায়। নিজের ইচ্ছায় হোক কিংবা নির্মাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই হোক, অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমায় কঙ্গনা নজর কাড়ার মতো অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। একজন গ্ল্যামারাস নায়িকার ইমেজ ছাপিয়ে ভালো অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টায় তার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার অভাব ছিল না। ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন কঙ্গনা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এই মুহূর্তে হিন্দি সিনেমার অঙ্গনে কঙ্গনা ‘পাওয়ারফুল অ্যাকট্রেস’ হিসেবেই খ্যাত, পরিচিত ও জনপ্রিয়। ৩১ বছর বয়সী এই বলিউড অভিনেত্রী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটাকেই বড় অর্জন মনে করেন।

এ সপ্তাহে কঙ্গনা রানাওয়াতের নতুন পরিচয় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে রুপালি পর্দায় আসছেন তিনি এবার। তার অভিনীত ও পরিচালিত ‘মনিকারনিকা :দ্য কুইন অব ঝাঁসি’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে এ সপ্তাহে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক নারী চরিত্র ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ-এর বীরত্বপূর্ণ কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি নির্মাণের ঘোষণা আসার পর থেকে সবার বিশেষ মনোযোগে ছিল। এই ঐতিহাসিক বায়োপিকে নাম ভূমিকায় কাকে দেখা যাবে—তা নিয়ে অনেক জল্পনাকল্পনা ছিল। কঙ্গনা রানাওয়াত ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ হয়ে রুপালি পর্দায় হাজির হচ্ছেন—জানার পর থেকে দর্শক অনেকটাই আশান্বিত হয়েছেন। কারণ এমন শক্তিশালী নারী চরিত্র যথাযথভাবে রূপায়ণের সক্ষমতা কঙ্গনা রাখেন—এমন আস্থা রয়েছে দর্শক-সমালোচকদের। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈকে নিয়ে উপমহাদেশে অনেক গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, টিভি সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে। দর্শক সেগুলো দেখেছেন, পড়েছেন, শুনেছেন। এমন একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র রূপায়ণের জন্য কঙ্গনা মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। একজন নারী, একজন গৃহবধূ, একজন মা, বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী একজন সাহসী নারী, একজন দুর্ধর্ষ নারী যোদ্ধা—একই সঙ্গে অনেকগুলো রূপ ধারণ করতে হয়েছে তাকে ‘মনিকারনিকা’ সিনেমার জন্য। কঙ্গনার অভিনয় জীবনে এটা ছিল সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘সিমরান’ সিনেমাতে। ২০১৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। একই বছর তার আরও একটি সিনেমা ‘রাঙ্গুন’ মুক্তি পেয়েছিল। দুটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বলিউডের এই সুঅভিনেত্রী। কিন্তু অভিনীত দুটি সিনেমা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি বক্স অফিসে। তার আগে ২০১৫ সালে ‘তনু ওয়েডস মানু রিটার্নস’ সিনেমাতে দ্বৈত চরিত্রে চমত্কার অভিনয় করলেও সিক্যুয়ালের প্রথম সিনেমাটির মতো সাফল্য পায়নি তা। একই বছরে কঙ্গনার আরও একটি সিনেমা ‘আই লাভ নিউইয়র্ক’ চরমভাবে ফ্লপ করে। গত কয়েক বছরে বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্যের চমক দেখাতে পারছে না কঙ্গনার সিনেমাগুলো। এটা কঙ্গনাকে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাট, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশকা শর্মাদের ক্রমাগত সাফল্যের ধারার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারকে মেলাতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়ে নিজেকে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য ভিতরে ভিতরে জেদ চেপেছিল তার। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘মনিকারনিকা :দ্য কুইন অব ঝাঁসি’ সিনেমায় চ্যালেঞ্জিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।